তার সংসারে স্ত্রীসহ পাঁচ সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তাদের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন এই ফুচকা বিক্রির আয়ে। আর এখন এক মেয়ে ও দুই ছেলে পড়ালেখা করছে।
লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আসুলী এলাকার হাজি বাড়ির বাসিন্দা ফুচকা বিক্রেতা বৃদ্ধ মো. শাহজাহান।
.png)
তিনি বলেন, ২০০১ সালে প্রথম লালমোহন হাইস্কুলের মাঠে ফুচকা বিক্রি শুরু করি। তখন এখানকার অনেকেই ফুচকা চিনতেন না। জানতে চাইতেন- এর নাম কী? তখন তাদের বলতাম শহরে এটিকে ফুচকা বলে। আমি চট্টগ্রামে ফুচকার দোকানে কাজ করেছি। সেখান থেকে এসে লালমোহনে প্রথমবারের মতো ফুচকা বিক্রি শুরু করি। প্রথম দিকে হাইস্কুলের সামনে ফুচকা বিক্রি করলেও পরে গার্লস স্কুলের সামনে বিক্রি শুরু করি। এখন গার্লস স্কুলের পাশেই নিয়মিত ফুচকা বিক্রি করি। একটি ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ফুচকা বিক্রি করে চলেছি।
ফুচকা বিক্রেতা শাহজাহান বলেন, প্রতিদিন বেলা ১১টায় স্কুলের সামনে ফুচকা নিয়ে আসি। স্কুল ছুটির পর বিকেলে বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্রি শেষে বাড়ি ফিরি। এতে করে দৈনিক প্রায় দুই হাজার টাকার ফুচকা বিক্রি হয়। যেখান থেকে খরচ বাদে আয় হয় সাত থেকে আটশ’ টাকা। এ দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি। তবে এখন বয়স হয়েছে। এজন্য দৈনিক বাড়ি থেকে এসে ফুচকা বিক্রি করতে কিছুটা কষ্ট হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে একটু কম পরিশ্রম করে বিশ্রাম নিতে পারতাম।
লালমোহন করিম রোডে শাহজাহানের কাছে ফুচকা খেতে আসা মো. অপু ও আয়মান জানান, অনেক বছর ধরে বিকেলে এই সড়কে ভ্যানগাড়িতে করে ফুচকা বিক্রি করেন এই লোক। বিভিন্ন মশলা দিয়ে তিনি ফুচকা তৈরি করেন। তার ফুচকায় অনেক স্বাদ রয়েছে। ইচ্ছা হলে অনেক সময়ই তার থেকে ফুচকা কিনে খাই। কারণ অনেকে ফুচকার দাম বাড়ালেও তার কাছে কম দামে ফুচকা পাওয়া যায়।
লালমোহনের ফরাজগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসন মুরাদ বলেন, শাহজাহান নামে ঐ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফুচকা বিক্রি করছেন। এ আয় থেকে তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কোনো প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে তাকে সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।