গত শনিবার (২৫ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় বখাটের জিম্মিদশা থেকে নারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কাগদি গ্রামের ইদ্রিস পাহাড়ের মাদকাসক্ত ছেলে রাসেল পাহাড় (২৩) তিন মাস আগ থেকেই ওই নারীকে প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নারীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন রাসেল। শনিবার রাতে ওই নারী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ির বাইরের টয়লেটে গেলে পেছন থেকে হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে রাসেল ও তার সহযোগী পাশের বাঁশ বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে রাসেল ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে আগুন থেকে বাঁচতে চিৎকার করতে করতে পাশের পুকুরে ঝাপ দেয় ওই নারী। পরে পরিবার ও গ্রামবাসী ছুটে গিয়ে জিম্মিদশা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ওই নারীর ছোট বোন বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত মাদকাসক্ত বখাটে রাসেল পাহাড় ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করতে পারিনি পুলিশ। রাসেলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ওই নারীর পরিবার ও এলাকাবাসীরা।
.png)
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী শাহ্ মো. আব্দুল্লাহ (শামীম) বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ওই নারীর শরীরে ৯ থেকে ১০ ভাগ আগুনে বার্ন। আমরা যে চিকিৎসা দিয়েছি তিনি আগের থেকে অনেক ভালো আছেন। তাকে আমরা এখানেই চিকিৎসা দিতে পারবো।
নির্যাতিত নারী বলেন, রাসেল পাহাড় আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের সহযোগী আমাকে মুখ চেপে ধরে টয়লেটের পেছনে টেনে নিয়ে যায়। পরে রাসেল চিকন প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে আমার পা বাঁধে। হাতে-পেটে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে, পরে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর বলে, যেহেতু রাজি হলি না আজ সেটা সফল হয়েছে, পরে চলে যায় তারা। তখন ছোট বোন এসে দেখে আমার শরীরে আগুন জ্বলছে পরে আমি পুকুরে ঝাপ দেই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
ওই নারীর বোন বলেন, অভিযোগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বোনের সঙ্গে যেটা হয়েছে এটা যেন আর না হয়।
শরীয়তপুর পৌরসভার ৬ নম্বর কাউন্সিলর হোসেন মো. আলমগীর মৃধা বলেন, একজন জীবিত মানুষকে আগুনে পুড়াবে এটা মেনে নিতে পারছি না। যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পরিবারটি যেন সঠিক বিচার পায় এটাই আমাদের দাবি।
ঘটনার পর থেকে রাসেলসহ তার পরিবার পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা ভিক্টিমকে দেখেছি। তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মুখ চেপে ধরে তার শরীরের কাপড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমাদের আইনী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ও তদন্ত শুরু করছি। আমরা অতিসত্বর অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবো।