জানা যায়, মৃত মো. মাসুদ পাথরঘাটা পৌরভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফেজ মো. মাহাবুবুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। মাহাবুব-নুরুন্নাহার দম্পতির তিন সন্তানই মেধাবী। বড় ছেলে মাহাতাব হোসেন একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। মাসুদ একটি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কিনিকের ব্যবসা করতেন। একমাত্র বোন মাহফুজা একজন গৃহিণী ও তার স্বামী চিকিৎসক বশির আহম্মেদ। মাসুদ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বরিশাল একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত মাসুদের স্বজন গিয়াস আহম্মেদ বলেন, মাসুদ দীর্ঘ বছর কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে নিজের ব্যবসাও বন্ধ করতে বাধ্য হয়। একমাত্র বোন নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও ভাইকে বাঁচাতে কিডনি দিতে চেয়েছিলেন। ভাইয়ের প্রতি বোনের ভালোবাসার দৃষ্টান্ত পত্রিকায় পড়েছি কিন্তু তা নিজের চোখে দেখলাম।
.png)
তিনি আরো বলেন, ছয় বছর আগে মাসুদের বড় ভাই ডা. মাহাতাবকেও একটি কিডনি দিয়েছেন মা নুরুন্নাহার বেগম। মায়ের দেওয়া কিডনি প্রতিস্থাপনে বড় ছেলে ডা. মাহাতাব এখন সুস্থ রয়েছে। মায়ের দেওয়া কিডনিতে বড় ছেলে সুস্থ হলেও, বোনের ইচ্ছে অনুযায়ী ছোট ভাইকে কিডনি দিতে চাইলেও বাঁচাতে পারল না; এই পরিবার এখন আমাদের সমাজের মানবিক উদাহরণ।
মাসুদের বোন মাহফুজা আক্তার বলেন, আমরা দুই ভাই একজন বোনে। ভাই-বোনের মধ্যে আমি একমাত্র বোন। আমি যেমন ভাইদের কাছে খুবই ভালোবাসার তেমনি দুই ভাইও আমার ভালোবাসার। মাসুদ ছোট ভাই হওয়ায় আমার খুব আদরের ছিল। ছোট বেলা থেকেই মাসুদের প্রতি আমার ভিন্ন রকম ভালোবাসা। ও দীর্ঘ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মাসুদের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারিনি।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই ডা. মাহাতাবের বরিশালের বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাঝে মধ্যে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা হতো। মঙ্গলবার রাতে কিডনি প্রতিস্থাপন করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মাসুদকে বাঁচাতে আমার নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও কিডনি দিতে সব প্রস্তুতিও শেষ করেছি। বরিশালে গিয়ে ডায়ালাইসেস শেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অপারেশন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু আর তাকে বাঁচানো গেল না। আমার একটি কিডনির দিয়েও মাসুদকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ছেড়ে চলেই গেল রক্তের বাধন ছেড়ে।