ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়ার জেরে আপন ভাইয়ের হাতে বোন হত্যা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৩
পরকীয়ার জেরে আপন ভাইয়ের হাতে বোন হত্যা
মনুজরা খাতুন মিমের একমাত্র ভাই আসামি মো. আলমগীর কবীর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় মনুজরা আক্তার মিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো দা ও রক্তমাখা জামা-কাপড়। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মিমের একমাত্র ভাই মো. আলমগীর কবীর।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনায় জড়িত আসামি গ্রেফতারসহ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জেলার গোয়েন্দা শাখা ও দর্শনা থানাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। মনুজরা খাতুন মিমের একমাত্র ভাই আসামি মো. আলমগীর কবীরকে (৩২) পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

Advertisement

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি স্বীকার করে যে, ভিকটিম মিম তার আপন ছোট বোন। বিবাহের পর থেকেই তার স্বামীসহ একত্রে তাদের বাড়িতে বসবাস করত। মিম তার আপন খালাতো বোনের স্বামীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আসামি আলমগীর তাকে পরকীয়া থেকে ফিরে আসতে বারবার সতর্ক করে। কিন্তু মিম প্রেমের পথ থেকে ফিরে আসতে নারাজ এবং প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকে। আসামি আলমগির রাগের বশবর্তী হয়ে মিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

মো. নাজিম উদ্দীন জানান, গত শনিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিমকে কৌশলে বাড়ির পার্শ্বে আমবাগানে ডেকে নিয়ে যায়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মিমের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ বেগুন ক্ষেতে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরে এ ঘটনা অন্যদিক প্রবাহিত করার জন্য আসামি আলমগীর উক্ত দা দিয়ে নিজের মাথায় তিনটি পোঁচ দেয় এবং আমগাছে থাকা রশি নিয়ে নিজে নিজেই হাত-পা বেঁধে চিৎকার করতে থাকে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করলে অপহরণের নাটক সাজিয়ে বিভ্রান্ত করে। 

নিহতের মা আসুরা বেগম সোমবার দুপুরের দিকে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাতে ঈশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে আমার ছেলে আলমগীর (৩২) বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে পিটাতে থাকে। তার চিৎকারে আমি ও আমার মেয়ে মিম উদ্ধারে গেলে তারা ছেলেকে ছেড়ে দেয়। পরে মেয়ে মিম নিখোঁজ হয়। ঐ রাতেই পুলিশ এসে আহত ছেলে আলমগীরকে সদর হাসপাতালে পাঠায় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ মনুজরা আক্তার মিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সন্ধান পাওয়া যায় না। পরদিন রোববার (২২ অক্টোবর) ভোরে বাড়ির পাশে বেগুন ক্ষেতে মিমের দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

ময়নাতদন্ত শেষে আজ সোমবার স্থানীয় কবরস্থানে মিমের লাশ দাফন হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!