ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আলফাডাঙ্গায় আগুনে পুড়লো দরিদ্র জেলের বসতবাড়ি 

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২২ অক্টোবর ২০২৩
আলফাডাঙ্গায় আগুনে পুড়লো দরিদ্র জেলের বসতবাড়ি 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মা আর মেয়ে দুজনে মিলে বাজারে গিয়েছিলো স্ট্রোক করে অসুস্থ গৃহকর্তার জন্য ওষুধ কিনতে। বাড়ি ফিরে দেখে তাদের সব শেষ। আগুনে পুড়ে গেছে বসতবাড়ি সহ ঘরে থাকা সব মালামাল। 

রোববার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দিগনগর বাজার সংলগ্ন পবনবেগ মালো পাড়ায় সুজিৎ মালো (৬০) নামে  নিতান্তই দরিদ্র এক জেলের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়িতে বসবাসের একটি মাত্র জরাজীর্ণ টিনের চৌচালা ঘরই ছিলো তাদের। রোববার সকাল ১০টার দিকে আগুন লেগে পুড়ে যায় সেটি।

সনাতনী ধর্মাবলম্বী এই পরিবার বছরের বড় আয়োজন দুর্গা পূজার উৎসবের মাঝে বসবাসের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা। পাঁচ মাস আগে স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পরে সেখানে দ্বিতীয় দফা স্ট্রোক করেন তিনি। এখন বাড়িতে বসে কোনমতে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। উমা ও সঞ্জিতা নামে দুই মেয়ে রয়েছে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে সঞ্জিবন ঢাকায় একটি মাছের আড়তে কাজ করেন। পূজা উপলক্ষে আজই সন্ধ্যায় তার বাড়ি ফেরার কথা বাজার-সদাই করে। এমনই একটি আনন্দময় পরিবেশের অপেক্ষার মাঝে ঘটে গেলো নিদারুণ বেদনাময় ঘটনা।

Advertisement

সুজিত মালো জানান, বড় মেয়ে উমাকে নিয়ে তার স্ত্রী সুমিতা সকালে আলফাডাঙ্গা বাজারে যান তার ওষুধ কিনতে। তিনি ঘরের বারান্দায় বসেছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঘরে পোড়া গন্ধ পেয়ে তাকিয়ে দেখেন বিদ্যুতের মিটার ও সুইচ বোর্ড লাগানো দিক হতে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই তাতে আগুন লেগে সারা ঘরে দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। 

সুজিত মালো কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘরের মধ্যে একটা সংসারে যা যা থাকার দরকার সবই ছিলো। তয় আগুন লাগার পর একটা পুরান লুঙ্গি ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। কোনো মালামাল বাহির করতে পারি নি।

সুজিত মালোর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিমিষে যাবতীয় মালামাল সহ পুরো ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দলের পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা থানার এসআই ইউনুসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পৌছে ঘটনাস্থলে।
  
বোয়ালমারীর ফায়ার ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আব্দুল খালেক বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো বলে জানা গেছে।

জেলে পরিবারটির শারদীয় দুর্গা পূজার মাঝে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র মনোবেদনা নেমে এসেছে গ্রামে। গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!