ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ১২ অক্টোবর ২০২৩
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড
ফাইল ফটো

চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় বেলাল হোসেন নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে টিটু সাহা নামে আরেকজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সিরাজাম মুনীরা এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোরবানপুর গ্রামের মন মিয়ার ছেলে। টিটু সাহা একই উপজেলার বাখরাবাদ রঞ্জিত মাস্টার বাড়ির নেপাল সাহার।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর দীর্ঘতম বড়ুয়া দীঘু বলেন, মা-মেয়ে হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি বেলাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Advertisement

এছাড়া অপর আসামি টিটু সাহাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, নগরের সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় একটি ভবনের চতুর্থ তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন মাংস ব্যবসায়ী শাহ আলম। সঙ্গে থাকতেন শাহ আলমের শ্যালক আলাল।

২০১৫ সালের ৭ মে সকালে শাহ আলম দোকানে চলে যান। সকাল ৯টার দিকে তার দুই ছেলেও স্কুলে চলে যায়। ঘরে ছিলেন শাহ আলমের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও ১০ বছর বয়সী মেয়ে রিয়া আক্তার ফাল্গুনী। সকাল পৌনে ১০টার দিকে শাহ আলমকে ফোন করে আলাল জানান- হত্যার শিকার হয়েছেন নাছিমা ও রিয়া।

এরপর শাহ আলম ঘরে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়া অবস্থায় পান। ঘরে থাকা এক লাখ ১১ হাজার টাকা, চার ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটি ফোন নিয়ে যান হত্যাকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাহ আলম।

২০১৫ সালের ২৭ মে হত্যাকাণ্ডের দিন হারিয়ে যাওয়া ফোনের সূত্র ধরে শাহ আলমের খালাতো ভাই বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর লুট করা স্বর্ণালংকার নগরের বাকলিয়া থানার ইসহাকের পুল এলাকায় একটি জুয়েলার্সের কর্মচারী টিটু সাহার কাছে বিক্রির কথা জানান বেলাল। এরপর টিটু সাহাকেও গ্রেফতার করা হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু করেন আদালত। এ মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!