ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ধানের খড়ে দড়ি, কৃষক হবে লাভবান

বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ১৫:১৯, ১১ অক্টোবর ২০২৩
ধানের খড়ে দড়ি, কৃষক হবে লাভবান
ধানের খড় দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দড়ি- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধান দানাশস্য জাতীয় উদ্ভিদ। ধানের প্রতিটি অংশ কৃষকদের জীবনে কাজে লাগে। এর মধ্যে অন্যতম উপজাত হলো খড়। গরুর খাদ্য ছাড়াও জ্বালানি, কাঁচা ঘরের ছাউনি তৈরি, বীজ জাগ দেওয়াসহ নানা কাজে কৃষকরা খড় ব্যবহার করেন। খড়ের সর্বাধিক ও বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য খড়ের দড়ি প্রস্তুত করার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানীরা।

ব্রি কর্তৃক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ (এসএফএমআরএ) প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে ‘ব্রি স্ট্র রোপ মেকার’ বা ‘দড়ি পাকানো যন্ত্র’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। যন্ত্রটি দিয়ে অতি সহজে, কম শ্রমে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাসের দড়ি প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

যন্ত্রটি তৈরির উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে এসএফএমআরএ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, খড় দিয়ে কম সময় দড়ি তৈরি করা, দড়ির ব্যাস সমান রেখে বিভিন্ন ব্যাসের দড়ি তৈরি, খড়কে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ এবং দড়ি তৈরিকেন্দ্রিক ব্যবসা সৃষ্টি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরি করা। এ মেশিন দিয়ে মিনিটে ৩ মিটার লম্বা দড়ি তৈরি করা যায় এবং খড় দিয়ে তৈরি দড়ি এক মণের অধিক লোড নিতে পারে।

Advertisement

ধানের খড়ের দড়িতিনি আরো বলেন, অটোক্যাড ইঞ্জিনিয়ারিং টুলসের (সফটওয়্যার) সাহায্যে তৈরি দড়ি পাকানো যন্ত্রটির নকশা তৈরি করা হয়। নকশা অনুযায়ী ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের গবেষণা ওয়ার্কশপে যন্ত্রটির প্রথম প্রটোটাইপ তৈরি করা হয়। যন্ত্রটির ক্ষমতা ০.৫৬ কিলোওয়াট যা দিয়ে প্রতি মিনিটে ৩ মিটার দড়ি তৈরি করা যায়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটেট সিনিয়র লিয়াজোঁ অফিসার কৃষিবিদ ড. এম আব্দুল মোমিন বলেন, ধান একটি বহুমাত্রিক শস্য। যার প্রতিটি অংশ কৃষকের কাজে লাগে। খড় হলো ধানের একটি প্রধান উপজাত। ধানের খড় স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য এবং পরিবেশবান্ধব। খড়ের দড়ি আধুনিক দড়ি হিসেবে বিবেচিত বিধায় কৃষক যন্ত্রটি ব্যবহার করে কম সময়ে, স্বল্প শ্রমে, দ্রুত এবং উন্নত মানের দড়ি তৈরি করতে পারবেন। এটি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!