বলছি, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পদুরগাতি গ্রামের রফিকের কথা। অভাবের সংসারের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। বয়স তখন সবে মাত্র ১২। সেই থেকেই শুরু হয় বাড়ি বাড়ি ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করা। কয়লা এনে কামারদের দোকানে বিক্রি করতে থাকেন।
কয়লা বিক্রেতা রফিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে কয়লা আনতে পারতেন। তবে এখন আর বিনামূল্যে কয়লা আনতে পারেন না। গ্রামের মহিলারাও এখন অর্থের বিনিময়ে কয়লা বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করছেন। কয়লা সংগ্রহ হলে তারপর এনে রাস্তার পাশে রোদে শুকিয়ে তা নিয়ে যান কামারদের দোকানে। কামাররা শুকনো কয়লাগুলো বেশি পছন্দ করেন।
.png)
প্রতিদিন কয়লা বিক্রি করে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন হয় তার। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশে সিলিন্ডার গ্যাস আসায় গ্রামে এখন লাকড়ি দিয়ে রান্না করা কমে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো এখন আর কয়লা পাওয়া যায় না।
কয়লা বিক্রেতা রফিক বলেন, ‘২০ বছর ধরে বাপ-দাদার কয়লার ব্যবসা ধরে রেখেছি। অভাবের সংসারে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছি’। তবুও কেনো এ পেশায় এখনো জড়িত আছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘অনেক আগ থেকে এ ব্যবসা করে আসছি। তাই অন্য পেশায় যেতে পারছি না’।