ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কয়লা বিক্রিতে চলে রফিকের সংসার

সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
কয়লা বিক্রিতে চলে রফিকের সংসার
কয়লার কাজে ব্যস্ত রফিক- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তার বয়স ৫৫। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের রান্না করা লাকড়ির কয়লা সংগ্রহ করে কামারদের দোকানে বিক্রি করেন। এই বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিনিয়ত ছুটে চলেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে, নিজ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। তবুও থেমে নেই তার জীবন। গ্রামের মহিলারা রান্না করার পর কয়লাগুলো সযত্নে উঠিয়ে রাখেন। তারপর তারা প্রতীক্ষায় থাকেন কখন আসবেন তিনি।

বলছি, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পদুরগাতি গ্রামের রফিকের কথা। অভাবের সংসারের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। বয়স তখন সবে মাত্র ১২। সেই থেকেই শুরু হয় বাড়ি বাড়ি ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করা। কয়লা এনে কামারদের দোকানে বিক্রি করতে থাকেন।

কয়লা বিক্রেতা রফিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে কয়লা আনতে পারতেন। তবে এখন আর বিনামূল্যে কয়লা আনতে পারেন না। গ্রামের মহিলারাও এখন অর্থের বিনিময়ে কয়লা বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করছেন। কয়লা সংগ্রহ হলে তারপর এনে রাস্তার পাশে রোদে শুকিয়ে তা নিয়ে যান কামারদের দোকানে। কামাররা শুকনো কয়লাগুলো বেশি পছন্দ করেন।

Advertisement

প্রতিদিন কয়লা বিক্রি করে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন হয় তার। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশে সিলিন্ডার গ্যাস আসায় গ্রামে এখন লাকড়ি দিয়ে রান্না করা কমে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো এখন আর কয়লা পাওয়া যায় না।

কয়লা বিক্রেতা রফিক বলেন, ‘২০ বছর ধরে বাপ-দাদার কয়লার ব্যবসা ধরে রেখেছি। অভাবের সংসারে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছি’। তবুও কেনো এ পেশায় এখনো জড়িত আছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘অনেক আগ থেকে এ ব্যবসা করে আসছি। তাই অন্য পেশায় যেতে পারছি না’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!