ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বারবার ধরা পড়েও ‘ডাক্তারি’ ছাড়েননি অষ্টম শ্রেণি পাস খোরশেদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বারবার ধরা পড়েও ‘ডাক্তারি’ ছাড়েননি অষ্টম শ্রেণি পাস খোরশেদ
মুহাম্মদ খোরশেদ আলম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুহাম্মদ খোরশেদ আলম। ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অস্থায়ী ওয়ার্ড বয়। সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে অষ্টম শ্রেণি পাস খোরশেদ হয়ে যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নামের পাশে দেশি-বিদেশি একাধিক ডিগ্রি লাগিয়ে দিতে থাকেন স্নায়ু রোগের চিকিৎসা।

নিজেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস দাবি করা খোরশেদ দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে বড় বড় ডিগ্রির ভার নিয়ে নির্বিঘ্নে দিয়ে আসছেন চিকিৎসা সেবা। অবশেষে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছেন কারাগারে।

এ দিন চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার একটি বাসায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে ধরা পড়েন খোরশেদ। পরে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো- এক কিংবা দুইবার নয়, এ নিয়ে অন্তত ছয়বার আটক হয়েছেন খোরশেদ। সাজাও খেটেছেন তিনবার। এরপরও ঘুরেফিরে ‘ডাক্তারিই’ করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রথম ধরা পড়েন ভুয়া চিকিৎসক খোরশেদ। এরপর সাতকানিয়া ছেড়ে চলে যান হাটহাজারীতে। সেখানেও খুলে বসেন চেম্বার। ২০১১ সালে হাটহাজারীতে ধরা পড়লে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করে স্বাস্থ্য প্রশাসন। 

পরে ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানোর সময় ধরা পড়েন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক পরিচয় দেওয়া কথিত চিকিৎসক খোরশেদ। ঐ সময় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাভোগের পর বেরিয়ে কিছুদিনের জন্য আড়ালে চলে যান খোরশেদ। এরপর মাগুরায় গিয়ে ফের একই কার্যক্রম শুরু করেন। 

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল মাগুরার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে প্রশাসন। ঐ সময়ও তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে কারাভোগের পর তার গন্তব্য হয় চট্টগ্রাম শহর। নগরের জামালখান ও কাট্টলী এলাকায় খুলে বসেন চেম্বার। 

২০২১ সালের ৬ জুলাই নগরের আকবরশাহ থানার কর্নেল জোন্স সড়কের একটি চেম্বার থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ছদ্মবেশ ধারণের অপরাধে নিয়মিত মামলা করা হয়। সেই মামলায় বেশ কিছুদিন কারাভোগের পর ফের গা ঢাকা দেন খোরশেদ। এরপর আবারো ফিরে আসেন একই পেশায়। ফের শুরু করেন প্রতারণা।

একাধিকবার জেলে যাওয়া খোরশেদ ব্যবহার করেছেন একাধিক ঠিকানা। কখনো হাটহাজারী, কখনো চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ; সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়ার সময় কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করেন। তার এমন প্রতারণা অবাক করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য পরিচালক।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের সাজা দিয়েছেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি- এর আগে কুমিল্লা, মাগুরা ও চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছিলেন তিনি। বারবার সাজা খাটার পরও তিনি শোধরাননি। তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা, সে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করা হবে। অবশ্যই তার শাস্তি পাওয়া উচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!