জানা গেছে, ৪০-৫০ টির মতো বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে উঠতি আমন ধানক্ষেতে হানা দিচ্ছে। এতে আমন ধানক্ষেতের থোরধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই চলতি আমন ফসল রক্ষায় কৃষকরা রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হৈ-হোল্লোর করে ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘর ও ফসলের মাঠে তাণ্ডব চালায়। এ সময় ক্ষুধার্ত বন্যহাতিগুলো তাড়াতে গেলে তারাও মানুষের ওপর আক্রমণ করে। এতে মাঝে মধ্যেই হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
.png)
উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউপির দাওধারা কাটাবাড়ি, ডালুকোনা, আন্ধারুপাড়া খলচান্দা, বুরুঙ্গা কালাপানি ও সমেশ্চুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে ফসলের ক্ষেত রক্ষা করতে গ্রামের লোকজন পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে পাহাড়ি গ্রামের কৃষকদের প্রায় ২০ একর জমির আমন ধানক্ষেত খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে বিনষ্ট করে দিয়েছে হাতির দল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বন্য হাতির একটি পাল খাবারের সন্ধানে পাহাড়ি গ্রামের ৩০-৩৫ জন কৃষকের আমনের ক্ষেত ও সামাজিক বনায়নের চারাগাছ নষ্ট করেছে। হাতিগুলো এলাকার বুরুঙ্গা কালাপানি লালটিলা নামক গভীর জঙ্গলে অবস্থান করছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এ সময় গ্রামের লোকজন মশাল ও খড় জ্বালিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে, হৈইচই করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা আরো জানান, বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া এলাকার কৃষকরা হাতি আতঙ্কে রয়েছেন। এমনকি ফসল নষ্ট হওয়াতে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন তারা। কৃষি ফসল ও চাষাবাদই তাদের প্রধান আয়ের পথ। সেটিও এখন হুমকিতে পড়েছে। তাই বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় সরকারীভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী, ইদ্রিস আলী ও ইব্রাহিম আলী জানান, এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ৪০-৫০ টি বন্য হাতির পালটি দিনে বুরুঙ্গা কালাপানি পাহাড়ি জঙ্গলে অবস্থান করছে। তাই ফসল রক্ষায় গ্রামের লোকজন হাতি প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট পোড়াগাঁও ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী বলেন, প্রতিবছর বন্য হাতির পাল খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এই হাতিগুলো তাড়ানোর জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও কৃষকরা হাতির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বন্য হাতির পালটি দিনে উপজেলার পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করছে। আর সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসছে। আমরা বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপর রয়েছি।
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। তাই তিনি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন।