ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সুরমা আক্তার ও তার প্রেমিক ইসমাইল। এর আগে, বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রফিকপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন।
.png)
জবানবন্দির বরাত দিয়ে বিজয়া সেন বলেন, কয়েক বছর আগে আবদুল কুদ্দুসের বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ করেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মিস্ত্রি ইসমাইল। এ সুযোগে কুদ্দুসের স্ত্রী সুরমার সঙ্গে ইসমাইলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রূপ নেয়। এরমধ্যে ইসমাইল বিদেশে চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। গত ৬ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ইসমাইল। বিষয়টি বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুরে খালার বাড়িতে অবস্থান নেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুরমার সহায়তায় ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুদ্দুসের বাড়ির ছাদে লুকিয়ে থাকেন। কুদ্দুস ঘুমিয়ে পড়লে ইসমাইলকে ছাদ ডেকে নিয়ে আসেন সুরমা। পরে দুই জনে মিলে বিদ্যুতের তার দুই পায়ে পেঁচিয়ে শক দিয়ে কুদ্দুসের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরমাকে এক ঘণ্টা অন্য রুমে আটকে রেখে ইসমাইল চলে যান। দুই ঘণ্টা পর ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন সুরমা। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সুরমা তাদের জানান, ডাকাতরা তার স্বামীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, সুরমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেনবাগের মোহাম্মদপুর থেকে ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, হত্যায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার, ইসমাইলের পাসপোর্ট ও মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাজীব (বেগমগঞ্জ সার্কেল) ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম।