গ্রেফতারকৃত শাহরিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের হালদারপাড়ার বাসিন্দা। গত ৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) স্বাগত সাম্য তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। নিহত জহিরুল হাসেম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গোকর্ণঘাট এলাকার জহুরা বেগমের ছেলে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক মনোয়ার হোসেন বলেন, বাবু ও শাহরিয়ার নাফিস জহিরুলের কাছ থেকে যথাক্রমে ৭ হাজার ও ৪ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। এছাড়া ঘটনার দুদিন আগে জহিরুলের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন নেন শাহরিয়ার। শাহরিয়ার পরে ফোনটি বিক্রি করে দেন। এরপর আসামিদের কাছে পাওনা টাকা ও স্মার্টফোন ফেরত চান জহিরুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়।
.png)
তিনি বলেন, ঘটনার আগের দিন দুপুরে বাবু ও শাহরিয়ার শহরের কাচারিপাড় মুক্তমঞ্চে বসে জহিরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আড্ডা দেওয়ার কথা বলে জহিরুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান তারা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে সদর উপজেলার পৈরতলা রেলগেটের কাছে দারিয়াপুর সেতুর ওপর বসে আবার আড্ডা দিতে থাকেন তারা। রাত ৩টার দিকে ওই রেলপথে একটি ট্রেন আসছিল। এ সময় আসামিরা জহিরুলকে চলন্ত ট্রেনের সামনে ফেলে দেন। এতে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জহিরুল।
মনোয়ার হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আখাউড়া রেলওয়ে থানায় হওয়া অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। এরপর নিহতের মা আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িত আসামি শাহরিয়ার নাফিসকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন শাহরিয়ার নাফিস।
পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ থেকে জহিরুলের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাজনিত কারণে জহিরুলের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২২ সালের ১০ আগস্ট নিহত জহিরুলের মা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন আদালত। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদারের নির্দেশনায় মামলাটি তদন্ত শুরু করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মনোয়ার হোসেন।