ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মহাদেবপুরের ‘পাখা গ্রাম’ ভালাইন

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৫, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
মহাদেবপুরের ‘পাখা গ্রাম’ ভালাইন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘পাখা গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভালাইন। এ গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার তাল গাছের ডাল থেকে পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পাখা তৈরি করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তারা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে এই পাখা। বছরে এ গ্রাম প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার পাখা বিক্রি হয়। তবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে আরো এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন কারিগররা।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রাম। ১৯৮০ সাল থেকে তাল গাছের ডাল থেকে হাত পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে এ গ্রামের মানুষ। পাখা তৈরিকে তারা এখন প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এ গ্রামটি এখন পাখা গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 
 
হাত পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তাল গাছের ডাল। আর এসব ডাল সংগ্রহ হয় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে। প্রতিটি ডাল কিনতে খরচ হয় ৭-৮ টাকা। প্রথমে ডালগুলোকে ভালো মতো সাইজ করে কেটে রোদে শুকাতে হয়। তারপর আবারো পানিতে ভিজিয়ে রোদে হালকা শুকিয়ে কাঁচি দিয়ে কেটে পাখার রুপ দেওয়া হয়। আর এসব কাজ করেন বাড়ির পুরুষরা। তারপর নারী কারিগররা রং মিশ্রিত বাঁশের কাঠি ও সুই-সুতা দিয়ে বেঁধে পাখার পুর্ণাঙ্গ রুপ দেয়। এভাবে কয়েক হাত ঘুরে তৈরি হয় একটি পাখা। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে ১৪ টাকা। যা পাইকারিতে বিক্রি হয় ১৯-২০ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকা। বছরে এ গ্রাম থেকে পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হয় সাড়ে ৫ কোটি টাকার পাখা।

কারিগর আনিছুর রহমান বলেন, চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাখার চাহিদা বেশি থাকে। বাকী সময় আমরা পাখা তৈরি করি। বছরে প্রায় প্রায় ৫০ হাজার পিস পাখা তৈরি করা হয়। পাখা বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো লাভ থাকে। যা দিয়ে চলে জীবন জীবিকা। তবে ঋণ করে এসব কাজ করতে গিয়ে লাভের একটি অংশ চলে যায়। 

Advertisement

আরেক কারিগর মুক্তার হোসেন জানান, গত ৩০ বছর ধরে পাখা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিবারের চার সদস্য সবাই পাখা তৈরি করা হয়। পাখা তৈরি করে জীবন জীবিকা চলে। সীমিত লাভে পাখা তৈরি করে বিক্রি করা হয়। যারা পাখার ব্যবসায়ী তারা কিনে নিয়ে ভালো লাভ করে। তবে সরকার থেকে সহযোগিতা পেলে বেশি পরিমাণ পাখা তৈরির পাশাপাশি ভালো লাভ করা যেতো।

মহাদেবপুরের ‘পাখা গ্রাম’ ভালাইন

পাখার কারিগর গৃহবধূ খোরশেদা বেগম বলেন, গত ১০ বছর থেকে পাখা তৈরির কাজ করছি। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় হয়। এ গ্রামের প্রায় ২০০ নারী পাখা তৈরির কাজ করে। ১০০ পিস পাখা সেলাই করে মজুরি পাওয়া যায় ১০০-১২০ টাকা। আর বাঁশের কাঠিতে রঙিন সুতা জড়ানোর মজুরি ১০০ পিসে ৫ টাকা। তুলনামুলক মজুরি কম পাওয়া যায়।

মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাছান বলেন, এ গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পাখা তৈরি করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। তবে তাদের জীবনমান তেমন উন্নত হচ্ছে না। পাখা তৈরি করতে গিয়ে তারা অর্থ সংকটে পড়ে। তবে স্বল্পসুদে ঋণ ও সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আরো বেশি পরিমান পাখা উৎপাদনের পাশাপাশি তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।

নওগাঁ বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক শামীম আক্তার মামুন বলেন, এরমধ্যে ওই গ্রামের কয়েকজনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণসহ স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। যাদের ঋণ প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করবেন। তাদের প্রজেক্ট আমরা পরিদর্শন করব। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: তাল নওগাঁ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!