রোববার বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক জামাল উদ্দিন। আসামি সোহেল লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরপাতা গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে, নিহত পলি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার উত্তর সুতালড়ি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদার মেয়ে। মোবাইলে নিহতের সঙ্গে সোহেলের সম্পর্ক ছিল। টাকার জেরে তাকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান সোহেল।
.png)
সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন জানান, সোহেল নামে এক আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদলত। এ সময় নিহতের লাশ গুম করার ঘটনায় আসামিকে আরো ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই মামলার অপর আসামি রিতা আক্তার ববিতার বিরুদ্ধে ঘটনার বিষয় প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদীর ছোট বোন নিহত পলি আক্তার রিতা বিয়ের আগ থেকে বেপরোয়া জীবন-যাপন করতেন। বিয়ের পরেও তিনি ফোনে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। তিনি ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে বাসায় না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি করেন তার স্বজনেরা। একপর্যায়ে ২২ মার্চ বাদীর ভগ্নিপতি (নিহতের স্বামী) মহিম হোসেন জাহিদ লোকমুখে জানতে পারে মুন্সীগঞ্জ জেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের একটি খালে অজ্ঞাত মহিলার বিচ্ছিন্ন মাথা পড়ে আছে।
নিহতের স্বামী সেখানে গিয়ে তার স্ত্রী পলি আক্তার রিতার নাকফুল, চুল ও মুখমন্ডল দেখে চিনতে পারেন। পরে দেহ বিচ্ছিন্ন মাথার ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনার নিহতের ভাই মনির হোসেন এজাজ বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ মামলা তদন্তে সন্দেহের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোহেল ও অপর এক নারী রিতা আক্তার ববিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতে উপস্থিত হয়ে ৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে আদালত আজ এ রায় দেন।