শনিবার রাতে র্যাব-১১ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুই আসামি গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে, ভাড়াটিয়া লোকদের মাধ্যমে আপন ছেলে মো. আরিফ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট মা খুকি বেগম ও আসামি মো. জয়নাল গাজীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া অপর দুই আসামি ইউছুফ মোল্লা ও মাহবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু রায়ের সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন না। তাদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ইউছুফ মোল্লা ও মাহবুব মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাব জানায়, গত ২৩ আগস্ট চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত হত্যায় জড়িত চারজনকে দণ্ডাদেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে র্যাব-১১ এর একটি দল গোপন তথ্যের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ এর অভিযানে ৩১ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানাধীন মাওয়া এলাকা হতে মো. ইউসুফ মোল্লাকে গ্রেফতার করে। একইদিন ফরিদগঞ্জ থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।
.png)
অপরদিকে গ্রেফতারকৃত আসামির সূত্র ধরে র্যাব-১১ এর পৃথক আরেকটি অভিযানে ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর এলাকা হতে মো. মাহবুব মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা তাদের অপরাধ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি এখনো পলাতক আছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, হত্যার শিকার আরিফ হোসেন তার মা খুকি বেগমের সঙ্গে আসামি জয়নাল গাজীর পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতেন। এ বিষয়ে মা ছেলের সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০১৫ সালের শুরুতে ছেলে আরিফ হোসেন প্রেমের সম্পর্ক করে পার্শ্ববর্তী উত্তর আলগী ইউনিয়নের মিজি বাড়ীর আব্দুস সালাম মিজির মেয়ে আসমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ে মা খুকি বেগম প্রথমে মেনে না নিলেও এক পর্যায়ে মেনে নেন। এরপর মা, ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া হতো।
এরই মধ্যে মা খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর ছেলের বউ আসমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর ১৮ নভেম্বর পরিকল্পিতভাবে মা খুকি বেগম নিজ বাড়িতে পরকীয়া প্রেমিক জয়নাল গাজী ও সহযোগীদের দিয়ে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে চলে যান। পরের দিন ১৯ নভেম্বর সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানান ডাকাতরা আরিফকে জখম করে ফেলে গিয়েছেন। আসমা স্বামীর বাড়িতে চলে এসে আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে ঢাকা নেয়ার পথে মতলব ফেরিঘাটে পার হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে আরিফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঐদিনই আসমা শাশুড়ি খুকি বেগমসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।