বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।
আব্দুল হালিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার ঘাটনগর গ্রামের আবু বক্কার ওরফে ভোগার ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌশলী মো. মকবুল হোসেন মামলাটি পরিচালনা করেন।
.png)
জানা যায়, আব্দুল হালিম জেলার খাদখোড়া গ্রামের ভুক্তভোগী গৃহবধূর পূর্ব পরিচিত ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়। ২০২০ সালের ৯ মে গৃহবধূর বাড়িতে বেড়াতে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৃহবধূর কাছে পানি পান করতে চান আব্দুল হালিম। গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকায় নিজেই তাকে শয়ন ঘরে পানি দিতে গেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে গৃহবধূ গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।
ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় রেকর্ডের নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত চার কর্মদিবসের মধ্যে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনার জন্য ধার্য থাকলে আসামি পলাতক থাকায় নিয়ম অনুযায়ী তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী এস.এম সারোয়ার হোসেন।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে জনাকীর্ণ আদালতে বৃহস্পতিবার পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়াও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালতের বিচারক। জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী নারীকে দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।