ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘ঝাঁপান খেলা’ দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:০৬, ৩০ আগস্ট ২০২৩
‘ঝাঁপান খেলা’ দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়
‘ঝাঁপান খেলা’

হাড়ি ও বাক্স থেকে বের হয়ে আসা খৈয়া গোখরা, পদ্ম গোখরা, কাল কেউটেসহ ভয়ঙ্কর সব বিষধর সাপ নিয়ে নানা মন্ত্র এবং হাতের কসরতের মাধ্যমে খেলা দেখালেন সাপুড়েরা। গ্রাম বাংলায় এখনো প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে সাপ খেলার আয়োজন হয়ে থাকে, যাকে ঝাঁপান খেলা বলে।

বিষাক্ত গোখরা সাপ মঞ্চে ছেড়ে দিয়ে উঁচু করে ফণা তোলানোর জন্য সামনে বীণের তালে নাচানাচি করেন সাপুড়ে। আর মনের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বিষধর সাপ খেলা দেখতে দর্শনার্থীরাও হয়ে থাকেন বুঁদ। এমনি ভাদ্রের বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে বীণ আর বাদ্যের তালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার প্রত্যন্ত গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঝাঁপান খেলা। এ খেলা দেখতে ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী।

মঙ্গলবার বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার পরানখালী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় ঝাঁপান খেলা বা সাপ খেলা প্রতিযোগিতা। মনজেল হোসেন নামে স্থানীয় এক সাপুড়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। আর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আশপাশের জেলা থেকে ১২টি সাপুড়ে দল মাটির পাত্র ও কাঠের বাক্সে করে সাপ নিয়ে আসে।

Advertisement

মঞ্চের ওপরে সাপ ছেড়ে দিতেই দর্শকরা আনন্দ ও আতঙ্কে হয়ে পড়েন উদ্বেলিত। একেকটি বিষধর গোখরা সাপ মঞ্চে নেমেই এদিক ওদিক চেয়ে ফণা তোলে। ফণা আরো উঁচু করতে তার সামনে নানান ভঙ্গিতে নাচা-গান করেন সাপুড়েরা। কারণ, যার সাপের ফণা যত উঁচু হবে তিনিই হবেন বিজয়ী।

তবে এখানে জয়-পরাজয় মুখ্য ছিল না, সাপের খেলা দেখতে পেরেই খুশি উপস্থিত দর্শকসহ সকলে। আর মানুষকে নির্মল আনন্দ ও বিনোদন দিতে পেরে খুশি সাপুড়েরাও খুশি বলে জানিয়েছেন।

গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ঝাঁপান খেলার আয়োজন করেন স্থানীয় সাপুড়ে মনজেল হোসেন। আগামীতেও তিনি এ খেলা চালিয়ে যেতে চান বলে জানান। তবে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝাঁপান খেলা টিকিয়ে রাখা দরকার বলে মনে করেন এলাকার সচেতন নাগরিক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, গ্রাম বাংলা প্রাচীন ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও তা উপেক্ষা করেই সব বয়সী দর্শকরা সাপ খেলা উপভোগ করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!