শুক্রবার সকালে উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের রানীগাঁও গ্রামের সেতু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের নির্মাণাধীন সম্প্রসারিত অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লিটন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ পৌর সভার মাগরাই গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের সঙ্গে থাকা শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেতু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের অটোরাইস মিলের পাশেই গত তিন মাস আগে আতব, মিনিকেট ও মোটা চাল তৈরির জন্য আরো পাঁচটি ডায়া (অবকাঠামো) স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সম্প্রসারিত ঐ ডায়া স্থাপনের কাজ করছিল দিনাজপুরের একদল শ্রমিক।
.png)
গত ১৮ আগস্ট শুক্রবার ডায়া স্থাপনের প্রধান মিস্ত্রিসহ দু’জন ছুটিতে বাড়িতে যান। বর্তমানে নিহত লিটনসহ মোট ৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজ সেড়ে সপ্তাহ শেষের মজুরি নিয়ে চলে যান শ্রমিকরা। পরে রাতের খাবার খেয়ে ৪ শ্রমিক ভাড়া নেয়া ঘরে ফিরে গেলেও রয়ে যান রাকিব ও লিটন নামে দুই শ্রমিক।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাকিব ঘরে ফিরলেও কাজের কথা বলে মিল এলাকায় রয়ে যান লিটন। মাঝরাত পর্যন্ত সহকর্মীরা অপেক্ষা করে দরজা আটকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর পর্যন্ত না ফেরায় সহকর্মীরা লিটনকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন একটি ডায়ার নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় লিটনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন শ্রমিক গোপাল। ঘটনাটি মিলের গার্ডকে বলা হলে মিল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
মিল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে সহকারী পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেল রায়হানা ইয়াসমিন ও থানার ওসি এমদাদুল হকসহ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়য়নাতদন্তের জন্য শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিহত লিটনের সঙ্গে থাকা অপর ৫ শ্রমিককে থানায় নেয়া হয়েছে।
শ্রমিক তারিফুল ও রাকিব জানান, বৃহস্পতিবার কাজ শেষে মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিটন ৪ হাজার টাকা নেন। তার কাছে আরো ৪-৫ হাজার টাকা ছিল। ঐ ৮-৯ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুরাতন স্মার্টফোন কেনার কথা ছিল লিটনের। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে ফিরে গেলেও লিটন কাজের কথা বলে বাইরে রয়ে যান। সারা রাত না ফেরায় ভোরে খুঁজতে বাইরে বের হলে লিটনের লাশ দেখতে পান তারা।
এ ব্যপারে নালিতাবাড়ী থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, ঘটনা তদন্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।