বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী এই রায় দেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বোরহান উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আকানিয়া গ্রামের ফকির বাড়ীর তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় শাহী মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ধর্ষণের শিকার শিশু সুইটি (ছদ্ম নাম) মসজিদের ইমামের কাছে কোরআন শিখতেন।
.png)
জানা গেছে, ওই শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়া শেষ হলে পড়া বন্ধ করে দেন বাবা। এরপর তিনি মেয়েকে কোরআন শেখার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম বোরহানের কাছে দেন। প্রতিদিন সকালে শিশু তার কাছে কোরআন শরীফ পড়তে যেতো। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে ইমাম শিশুর বাড়িতে ফোন করে জানান. মসজিদ কমিটি মসজিদ সংস্কারের জন্য স্থাপনা ভাঙবে। তাই শিশু যেন তার কোরআন শরীফ মসজিদ থেকে নিয়ে আসে। ফোন পেয়ে ওই শিশু মসজিদে কোরআন শরীফ আনতে গেলে অভিযুক্ত ইমাম শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
তাৎক্ষণিক ঘটনাটি শিশুর বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তারা কোনো ধরণের সমাধান করতে না পারায় শিশুর বাবা ২১ মার্চ কচুয়া থানায় বোরহানকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
কচুয়া থানার তৎকালীন এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলমকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তদন্ত শেষে একই বছর ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম বাবু জানান, মামলাটি গত তিন বছরের অধিক সময় চলা অবস্থায় ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী।