শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি গ্রাম সংলগ্ন ডহরী খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচজন। তাদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
উদ্ধার হওয়া মৃতরা হলেন- মোকসেদা (৪২), পপি (২৬), শাকিব (৮), হ্যাপি (২৮), রাকিব (১২), সাজিবুল (৪), ফারিহান (১০) ও সজীব। তারা সিরাজদিখান উপজেলার লতাব্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
.png)
জানা যায়, পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্ট থেকে সিরাজদিখানর দিকে যাচ্ছিল পিকনিকের ট্রলারটি। রাত ৮টার দিকে ঈদের পাড়া ইউনিয়নের রসকাটি এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকারে একটি বালুবাহী বাল্কহেড ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীসহ ডুবে যায় ট্রলারটি। এ সময় অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন বাকিরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, ট্রলারটিতে ৪৬ জন যাত্রী ছিল। প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আরো দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৪ নারী ও ৪ জন পুরুষ। এরে মধ্যে রয়েছে শিশুও।
দুর্ঘটনার পর পরই ট্রলারের যাত্রীদের স্বজনরা নদী পাড়ে চলে আসেন। সেখানে নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনরা আহাজারি করছেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনলেই তারা সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। ট্রলারডুবির পরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ড।
এদিকে, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের স্বজনদের সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসক মো. আবুজাফর রিপন।