হোসেনপুর উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে হোসেনপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পেছনে সবুজ বাংলা মুয়াজ নার্সারি অবস্থিত। বিদেশ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে বহু জমি জমা বাড়িঘর নির্মাণ করেন। বগুড়ায় সফরে গিয়ে নার্সারি দেখে মনের মাঝে শখ জাগে উনার বাড়িতে একটি নার্সারি করবেন। সেখান থেকে ফিরে মহিলা কলেজের পেছনে ৪০ শতক জায়গার ওপর ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ রোপণ শুরু করেন।
নাম দিয়েছেন ‘সবুজ বাংলা মুয়াজ 'নার্সারি। এ নার্সারিতে জলপাই, লিচু, বরই, কাঁঠাল, আম, পেয়ারা, লেবু, জাম, আখ, মরিচ, বিভিন্ন জাতের ফুল ও ওষধি গাছ পাথরকুচি, তুলসি চারা উৎপাদন শুরু করেন। এসব চারা বিক্রি করে তার মাসিক আয় হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো।
.png)
কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গফরগাঁও, পাকুন্দিয়া, ভৈরব, নান্দাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে তার নার্সারি থেকে কলম জাতের গাছের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন তার বার্ষিক আয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।
তিনি জানান, তার এই জমির নার্সারিতে মাসিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সে হিসেবে ব্যয় বাদে তার মাসিক আয় থাকছে ৫০ হাজার টাকা।
নার্সারির আয় দিয়ে তিনি তার ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগানসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছেন।
নার্সারি ব্যবসায়ী মহররম আলী জানান, ব্যবসা করে লাভবান হওয়াই বড় কথা নয়। তিনি নার্সারি ব্যবসায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এটা শুরু করেছেন। কেউ যদি নার্সারি করতে চায় তাহলে তিনি সবধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করবেন। তিনি তার নার্সারিকে দেশের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। পাশাপাশি এ উপজেলায় কমপক্ষে শতাধিক নার্সার তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ জন্য দিনরাত খেটে যাচ্ছেন তিনি। এখানে প্রতিদিন ৮-৯ জন শ্রমিক কর্মে নিয়োজিত থাকেন। শ্রমিকরাও নার্সারিতে কাজ করে ভালোভাবে দিনাতিপাত করতে পারছেন।
হোসেনপুর উপজেলার কৃষি উপ-সহকারী জাহিদ হাসান রণি জানান, বর্তমানে বৃক্ষরোপণে মানুষের আগ্রহ বাড়ায় নার্সারিতে চারা উৎপাদন ও ফলজ বাগান করে লাভবান হচ্ছে অনেকেই। ফলে নার্সারিতে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা তাদের জৈব সার উৎপাদন, বালাইনাশক ও ফল উৎপাদনের যাবতীয় প্রযুক্তিগত সহযোগীতা করে থাকি।