বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর ইউএনও অমিত রায়। ঐ বৃদ্ধা গত ৭-৮ দিন ধরে হিলি স্থলবন্দর এলাকার একটি বাড়ির বারান্দায় শুয়ে বসে দিন রাত কাটাচ্ছিলেন।
হাকিমপুর ইউএনও অমিত রায় বলেন, শাকিলা বেওয়া নামে এক বৃদ্ধাকে তার ছেলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় তিনি হিলিতে এসেছিলেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে আজকে তাকে রংপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়েছে।
.png)
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দাস বলেন, শনিবার রাত থেকে তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তাকে রংপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে সেখানে তার দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি এরকম সামাজিক অবক্ষয় আর ঘটবে না। এরকম কোনো বৃদ্ধা মা তার সন্তানের কাছ থেকে বিতাড়িত হবেন না।
প্রসঙ্গত, শাকিলা বেওয়া নামের ঐ বৃদ্ধা মহিলার বাড়ি ঢাকায় তার জামিল হোসেন নামের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তার হাতে কাপড়ের ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে হিলিগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বলে যেখানে দুচোখ যায় চলে যাও আর কখনোই এই বাড়িতে আসবে না। এমনকি বাসে তুলে দেওয়ার সময় ঐ মা তার ছেলের মোবাইল নম্বর চাইলেও দেননি বলে জানান ঐ বৃদ্ধা।
এর পর তিনি ঢাকাগামী কোচে করে হিলিতে আসলে কোচ চালক তাকে হিলি স্থলবন্দরের চেকপোস্ট সড়কের টেম্পো স্ট্যান্ড মোড়ে নামিয়ে দেন। গত ৭-৮ দিন ধরে সেখানে এক ব্যক্তির বাড়ির বারান্দায় শুয়ে বসে দিন রাত পার করছিলেন ঐ বৃদ্ধা।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের নজড়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শনিবার তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আজ রংপুর বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়েছে।