ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায়। মৃত সাগর মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের চরবামুন্দি গ্রামের কাশেম মোল্যারত ছেলে।
জানা গেছে, একই এলাকার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাগরের। মাঝে মধ্যে তারা গোপনে মিলিত হতেন। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) রাতে একান্তে দেখা করতে গেলে তাদের হাতেনাতে ধরেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে উভয় পরিবারের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা সেখানে হাজির হন। এরপর বিচার-সালিশ শেষে গভীর রাতে ধর্মীয় মতে সাগরের সঙ্গে ওই প্রেমিকার বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে রাত ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
.png)
স্থানীয় বাসিন্দা রওশন মিয়া বলেন, রাতে সাগর ও মেয়েটি ধরা পড়ে। পরে চেয়ারম্যান ও অভিভাবকরা বিয়ে দেন। ওই সময় সাগর বলেছিল, তোমরা জোর করে আমার বিয়ে দিতেছো, সকালে কিন্তু আর আমারে পাবে না’। তখন তার বাবা কাশেম বলেন, আগে বিয়েতো হোক, তারপরে দেখা যাবেনে।’
সাগরের বাবা কাশেম মোল্লা বলেন, ওই রাতে ইউপি চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলের হাত-পা বাঁধা। শুনতে পেলাম আমার ছেলেকে এক মেয়ের সঙ্গে ধরে বেঁধে রেখেছে। আমি তখন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাদশা খানকে বলি, আপনারা দশজনে যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করেন। আমার কোনো আপত্তি নেই।
মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবির উদ্দিন শেখ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে সাগর আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছি। তবে সাগরের সঙ্গে কারো প্রেম-বিয়ের বিষয় নিয়ে কিছু জানি না। আমি কোনো সালিশ করিনি।
মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, সাগরের সঙ্গে ওই ইউনিয়নের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জেরে আত্মহত্যা করেছেন সাগর। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তদন্ত চলছে।