ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা কেন্দ্রীয় মসজিদের অজুখানার পাশে। এরপর পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবারের লোকদের খুঁজে এনে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে মরদেহ দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ।
.png)
মৃত আব্দুল আজিজ মৃধা শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তাফালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে ছিলেন। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন উপজেলা সদরের পাঁচ রাস্তা এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উপজেলা সদরের রায়েন্দা কেন্দ্রীয় মসজিদের অজুখানার পাশে পড়েছিল মরদেহটি। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবারের লোকদের খুঁজে এনে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের প্রথম সংসারের বড় ছেলে মতিয়ার রহমান বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রী-সন্তানদের চাপে আমাদের কোনো খোঁজ নিতেন না বাবা। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর কৌশলে তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন দ্বিতীয় স্ত্রী- সন্তানরা। কিন্তু বাবার কোনো দেনা শোধ করেননি তারা। জানাজার সময় পাঁচজন পাওনাদার এসে টাকা দাবি করলে দ্বিতীয় ঘরের সন্তানরা বাবার মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান।
এমতাস্থায় বেওয়ারিশ হিসেবে বাবার মরদেহ দাফনের জন্য স্থানীয়রা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য উপজেলার মালিয়া আল-ফালাহ্ মাদরাসার কবরস্থানে তার কবর প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজের মধ্যস্থতায় পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধে আশ্বস্ত করার পর জানাজা সম্পন্ন হয়। বাবার মরদেহ আমাদের গ্রামের বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করি।
ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবারের লোক ও পাওয়ানাদাদের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহের জানাজা শেষে তার প্রথম সংসারের বড় ছেলে মতিয়ার রহমানের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত জমি ও অর্থ উদ্ধার করে ঋণ পরিশোধ করা হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তাৎক্ষণিক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধান করে মরদেহের জানাজা ও দাফনের জন্য বলা হয়। পাওনাদাররা যাতে তাদের টাকা পেতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হবে।