মাদারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর ঝর্ণা বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র্যাব। এর আগে, সকালে পাবনা জেলার কাচারীপাড়া এলাকা থেকে খোকনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, চার বছর আগে শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের সাড়ে বিশ রশি এলাকার ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয় নড়াইল জেলার খোকন শেখের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী খোকন বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন ঝর্ণা। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি ও মারধর চলত। গত মঙ্গলবার থেকে ঝর্ণা বেগম নিখোঁজ ছিলেন এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার খোঁজ মেলেনি।
.png)
এদিকে শুক্রবার বাড়ির পাশের বাঁশ বাগান থেকে দূর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ঝর্ণা বেগমের অর্ধ গলিত মরদেহ দেখতে পায়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ওইদিন শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ঝর্ণা বেগমের বোন শাহিদা বেগম। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় স্বামী খোকন শেখ। বিষয়টি র্যাবের নজরে আসলে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে তারা। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে পাবনা জেলার কাচারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি খোকন শেখকে গ্রেফতার করে র্যাব-৮ ও র্যাব-১২ এর একটি যৌথ দল।
মাদারীপুর ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও কোম্পানি কমান্ডার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামি খোকন শেখ পলাতক ছিলেন। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের শেষে স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের কানের দুল ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান খোকন।