ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাবার পতিত জমিতে ড্রাগন চাষে সফল বাপ্পি 

বিল্লাল হোসেন, (কালীগঞ্জ) গাজীপুর
প্রকাশিত: ১১:৫৯, ১০ জুলাই ২০২৩
বাবার পতিত জমিতে ড্রাগন চাষে সফল বাপ্পি 
ড্রাগন ফলের চাষ

প্রযুক্তি ও ইউটিউবের সহায়তায় বাবার পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুরে বায়েজিত বাপ্পি। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করলেও কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন তার বাৎসরিক আয় ১৮-২০ লাখ টাকা। ছেলের এমন সফলতা দেখে তার বাবা উপজেলার মাওনা গ্রামের মমতাজ উদ্দিন অনেক খুশি।

তবে শুরুর গল্পটা এতটা সহজ ছিল না। পরিবারের কাছে অর্থ-সহায়তা চাইলে অজানা ফলের কারণে ড্রাগনে চাষে নিরুৎসাহিত করেন বাবা। এতে থেমে যাননি বাপ্পি। শিক্ষাজীবনে নিজের নামে থাকা একটি ব্যাংকের স্থায়ী আমানত ভেঙে দুই লাখ টাকা পান। সেই টাকা নিয়েই শুরু করেন স্বপ্নের কৃষি খামার। নাম দেন বাবা মমতাজ উদ্দিনের নামে ‘মমতাজ উদ্দিন ড্রাগন ফ্রুটস খামার’।

ড্রাগন ফলের চাষ

Advertisement

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বায়েজিদ বাপ্পী তাজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। আর এখন দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণে। চারা তৈরি, এলাকার বেকার যুবকদের উৎসাহিত করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, বাগান তৈরিতে সহায়তা করায় তার মূল কাজ। দীর্ঘ ৬-৭ বছরে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়ে এখন অন্যদেরও তিনি ড্রাগন ফল চাষে পথ দেখাচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে মাত্র ৮টি ড্রাগনের চারা নিয়ে যে স্বপ্ন শুরু করেছিলেন তা কয়েক বছরের ব্যবধানে তার বাগানে এখন ফল যোগ্য ড্রাগন গাছ রয়েছে ১০ হাজারের ওপরে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে তিনি ৮টি জাতের ব্যবহার করলেও তার কাছে আরো বেশ কিছু উন্নত জাতও রয়েছে। প্রতিটি ড্রাগন গাছ বছরে ৮ মাস শুধু শীতকাল বাদে একাধারে ফল দেয়। প্রতিটি গাছ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বর্তমান পাইকারী বাজারে তিনি প্রতি কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। তিন বছরে একটি ড্রাগন গাছ পরিপক্কতা অর্জন করে। ১৫ বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম ড্রাগন গাছ।

ড্রাগন ফলের বাগান

বাপ্পির বাবা মমতাজ উদ্দিন বলেন, বিদেশি ফল চাষের পেছনে আমি ছেলেকে প্রথমে নিরুৎসাহিত করি। পরে যখন দেখি তার বাগানে ফুল ফল এসেছে, এরপর আমারও ভালো লাগা শুরু হয়। প্রথমে সহায়তা না করলেও পরে নিজের আগ্রহ তৈরি হয়। ছেলের সঙ্গে নিজেও কাজ শুরু করি। এখন তো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। বছরে সে ড্রাগন চাষ করে ভালো আয়ও করছে, যেটা চাকরি করলে হয়তো নাও পেতো।

তিনি আরো বলেন, ছেলে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ায় যেমন খুশি হয়েছি। তবে এর চেয়ে ভালো লাগে যখন দেখি এলাকার বেকার যুবকদের ড্রাগন চাষে সে উৎসাহিত করে, তাদের বাগান তৈরি করে দেয়। আমার ছেলের মতো অনেকের বেকারত্ব ঘোচানোর পথও খুলে গেছে মনে হচ্ছে।

বায়েজিদ বাপ্পি জানান, তিনি চেয়েছিলেন বিশেষ কিছু করবেন। সেই বিশেষ কিছুটা হলো ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণ। দেশের আবহাওয়ার উপযোগী এ বিদেশি ফলটি খেতে সুস্বাধু হওয়ায় দেশের মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। তিনি বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসে বছরে ১৮-২০ লাখ টাকাও আয় করতে পারছেন। 

ড্রাগন ফল সংগ্রহ করছেন চাষি

তবে এখন তার মূল ভাবনায় ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণে আশপাশের মানুষদের প্রশিক্ষিত করে তোলা। চারা তৈরি করে বাগান তৈরিতে সহায়তা দান করে যাচ্ছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষকে ছোট বড় বাগান তৈরিতে সহায়তা দিয়েছেন তিনি। তিনি চান তার মত সবাই ড্রাগন চাষ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করুক। 

তিনি বলেন, আমার বাগানে বর্তমানে ৩২ ধরনের ড্রাগন ফল গাছ ও গাছের চারা রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির মধ্যে জাতের ড্রাগন বাজারজাত ও উৎপাদন করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মার্কেটিং করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চারা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। লাল, গোলাপী, সাদা, বেগুনী, হলুদ, ব্ল্যাকইশ রেডসহ বিভিন্ন জাতের ড্রাগনের চারা রয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, আবহাওয়া উপযোগী থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে ড্রাগন। অনেকেই শখের বসে বাসার ছাদেও চাষ করছেন,ফলনও পাচ্ছেন। আমাদের এখানে কৃষি উদ্যোক্তা বাপ্পির সফলতা এলাকার অন্য যুবকদেরও পথ দেখাচ্ছে। কেউ যদি ড্রাগন চাষ করতে যান তাহলে কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!