ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পুনর্বাসন কেন্দ্রে তামান্না-রহিমার বিয়ে, অতিথি ৩০০

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪০, ২৫ জুন ২০২৩
পুনর্বাসন কেন্দ্রে তামান্না-রহিমার বিয়ে, অতিথি ৩০০
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের দুই নিবাসী তামান্না ও রহিমার বিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলছে আনন্দ-উৎসবের আমেজ।
 
শনিবার দুপুরে আয়োজিত বিয়ের মধ্যদিয়ে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১৭-১৮ তম বিয়ের অনুষ্ঠান একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো বলে জানান জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ। যেখানে বর ও কনেপক্ষ মিলে ৩০০ অতিথির খাবারের আয়োজন করা হয়।

সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবাসী রহিমার সঙ্গে বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা ও দিনমজুর রাসেলের বিয়ে হয়েছে। আর তামান্নার সঙ্গে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউপির মানিককাঠি এলাকার বাসিন্দা মুদি দোকানি ফরিদ হোসেনের বিয়ে হয়েছে। যেখানে রহিমা ১০-১২ বছর ধরে এখানে রয়েছেন, সে পিরোজপুর থেকে আসলেও তার পরিবারের কারো সন্ধান আমাদের কাছে নেই। অপরদিকে তামান্না ৪-৫ বছর ধরে এখানে রয়েছেন। তার বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাটে।

Advertisement

সমাজের ৮-১০টি বিয়ের মতো পূর্বে উভয় পক্ষে দেখাদেখি ও কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েই বিয়েতে মতো দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের তামান্না। 

তিনি আরো বলেন, আগেই পাত্র ও তার পরিবারের সঙ্গে স্যারেরা কথা বলেছেন, আমিও কথা বলেছি। উভয়ের মতে এ বিয়ে হচ্ছে। আমার মা ফরিদা বেগমও এসেছেন।

এদিকে রহিমার কেউ না থাকায় তার পাশে পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবাসী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই রয়েছেন। আর তাদের অংশগ্রহণে বেশ উচ্ছ্বসিত রহিমা বলেন, বিয়েতে কোনো কমতি রাখেননি। বিয়ের পোশাক কেনা, পুনর্বাসন কেন্দ্র সাজানো, গান-বাজনার মধ্য দিয়ে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে এখন বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের শুধু অনুষ্ঠান করে বিয়েই দিচ্ছে না, সঙ্গে অনেকে উপহারও দেবেন।

বিয়েতে উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন, লেপ-তোষক ও প্রতেক্যেকে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ। 

তিনি বলেন, বিয়েতে লেপ-তোষকসহ সাংসারিক কাজে প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। যেটি সব মেয়েদের বিয়েতে বাবার দিয়ে থাকেন। আর ওরা দুজনই সেলাইয়ের কাজ জানেন, তাই সেলাই মেশিন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে প্রত্যেক দম্পতিকে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

তামান্নার বর ফরিদ হোসেন ও রহিমার বর রাসেল হোসেন জানান, তারা উভয়ই পূর্বে এখানকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সেখানে এসে তাদের পাত্রী পছন্দ হলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।  এরপর কথাবার্তা বলে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন।

ফরিদের বোন লাকী আক্তার বলেন, আমরা চাই বিয়ে করে দুজনে সুখে-শান্তিতে থাকুক। 

রাসেলের চাচা কবির হোসেন বলেন, আমরা তো এ বিয়েতে বেজায় খুশি। তাদের জন্য আমরা দোয়া করছি। সামনের দিনগুলোতে তারা সুখে থাকুক।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিয়ের আয়োজনে আমরা সবাই খুশি। আমাদের মেয়েরা যাতে ভালো থাকে সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো। শুধু বিয়ে দিয়ে দায়সারা নয়, আমরা ভবিষ্যতে তাদের খোঁজখবর রাখবো। যেমনটা আমার মেয়ের বেলায় রাখা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বরিশাল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!