শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ইটের দেয়াল, মাটির দেয়াল ও টিনের বেড়া আর ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করেছে হাতির পাল।
জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া, বিজয়পুর, ভাংতিরপার, ছনগড়া ও সদর ইউনিয়নের, ফারংপাড়া, ভবানীপুর, দাহাপাড়া, বাদাম বাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে কয়েক বছর ধরেই তাণ্ডব চালাচ্ছে ভারতীয় বন্য হাতির দল। সীমান্তে গ্রামগুলোতে বেড়েই চলেছে হাতির তাণ্ডব।
.png)
গৃহবধূ জাহেদা বেগম বলেন, ‘হাতির চিৎকার শুনেই আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালিয়েছি। এলাকার অনেকের ঘর ভেঙে ফেলেছে। হাতির ভয়ে রাতে ঘুমাতেও পারছি না।'
কৃষক নূরে আলম বলেন, ‘হাতির দল আগুন দেখেও ভয় পায় না। চিৎকার করলেও কাজ হয় না। আমরা এখন নিরুপায়।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিগুলো বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। দিনের বেলার বেশি সময় পাহাড়ের উঁচু-নিচু টিলায় থাকলেও রাত হলেই চলে আসছে লোকালয়ে। আজ এই বাড়ি তো কাল ঐ বাড়িতে হানা দিচ্ছে হাতি। এতে স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে আছেন।’
দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, ‘ক্ষুধার্ত হাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। মাইকিং করে গ্রামের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বন বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। বন বিভাগের আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান বলেন, বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ঐ এলাকায় নতুন করে শুরু হয়েছে বন্য হাতির তাণ্ডব। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ৪ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।