জানা যায়, নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন যাবত ৪০-৪৫ টি বন্যহাতির দল তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের পার্শ্ববর্তী বুরুঙ্গা কালাপানি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে জসিম উদ্দিনের বসতঘর ও রান্নাঘর ভেঙে তছনছ করে।
একই সঙ্গে উসমানের মৎস্য খামারের পুকুরে নেমে গোসল করে ও পানি পান করে। রাতব্যাপী তার তিনটি পুকুরে হাতির দল তাণ্ডব চালায়। এ সময় হাতির তাণ্ডবে এসব পুকুরের দেশীয় প্রজাতির মাছ মরে পুকুরে ভেসে ওঠে।
.png)
এছাড়া বন্যহাতি ঐ মৎস্য খামারের পাহাড়াঘরটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ঐ ঘরে রাখা মাছের খাদ্যের বস্তা, টিউবওয়েল, পুকুর পাড়ের বাউন্ডারি, মোবাইল ফোন ও ঘরেরর আসবাবপত্র শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে তছনছ করে।
মৎস্য খামারের মালিক মোবারক আলী বলেন, মাছের প্রজেক্টে হাতির দল তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। দুশ্চিন্তায় আছি কেমনে এই ক্ষতি পুষিয়ে তুলবো।
বুরুঙ্গা কালাপানি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন বলেন, বোরো ধান কাটার পর থেকে বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে আশপাশের ঘরবাড়িতে হামলা করছে। বন্যহাতির দল এখন গাছের কাঁঠাল খেয়ে ফেলেছে।
পাহাড়ি এলাকার মানুষ জানমাল বাঁচাতে চিৎকার ও হৈ-হুল্লোড় করে রাত কাটাচ্ছেন। হাতির তাণ্ডব মোকাবিলা করতে মশাল জ্বালানোর কেরোসিন তেল পাচ্ছেন না তারা।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সরকারিভাবে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, সীমান্ত এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বন্যহাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, আহত ও নিহত পরিবারকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। তিনি বন্যহাতিকে উত্যক্ত না করার আহবান জানান।