লিচু বাগানে কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বা আসছেন বন্ধু বান্ধব আর আত্মীয়স্বজন নিয়ে। সবাই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেউ আবার বাড়ির জন্য লিচু কিনছেন। আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে আবার অনেকেই ফ্রেমে বন্দি করতে লিচু বাগানে তুলছেন সেলফি কিংবা ছবি।
এমন দৃশ্য দেখা যায় ভেড়ামারা বিভিন্ন গ্রামে। কারণ এখন লিচুর ভরা মৌসুম হওয়ায় বেড়ে গেছে এলাকায় দর্শনার্থীদের সমাগম। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক লোক লিচু বাগানে ঘুরতে আসছেন। এরইমধ্যে লিচু পাকতে শুরু করায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
.png)
জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারে চলছে লিচুর বিকিকিনি। এতে যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও পাইকাররা। এখানকার লিচু রসালো, মিষ্টি ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর কদর রয়েছে।

উপজেলার পৌরসভাসহ মোকারিমপুর ক্ষেমিরদিয়াড়, রামকৃষ্ণপুর, বাহাদুরপুর, ষোলদাগ, চাদগ্রাম, মনপাড়া এবং ধরমপুর এলাকায় লিচু নিয়ে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাগানে বাগানে চলছে লিচু সংগ্রহের কাজ। গাছ থেকে পেড়ে বাজারজাত করতে নারীসহ সব বয়সের লোকজন কাজ করছেন।
এরইমধ্যে লিচু বাগানগুলোতে নানা বয়সী লোকদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন করে লিচু বাগানে তারা আসছেন।
উপজেলার জুনিয়াদহ এলাকা থেকে লিচু বাগান দেখতে এসেছেন শিক্ষক লুৎফর হোসেন। তিনি বলেন, কাজের চাপে অনেক দিন ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। লিচুর ভরা মৌসুম চলায় স্ত্রী, ছেলে মেয়ে আর বোনকে নিয়ে ক্ষেমিরদিয়াড় এলাকায় এসেছি। সবাই মিলে লিচু বাগানে ছবি তুলেছি, লিচু খেয়েছি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য লিচু কিনেছি।
পৌর এলাকা থেকে আসা আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘ দিন নানা কারণে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই লিচু বাগান দেখতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা। লিচু বাগান দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়েছি। এখানে লিচু খাওয়ার পাশাপাশি সবাই মিলে ছবি তুলেছি। বাড়ির জন্য ২০০ লিচু কেনা হয়েছে।
বাগান মালিক মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার তিনটি বাগানে ৬৫টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হলেও তুলনামূলক ফলন ভালো হয়েছে। লিচু বিক্রি শুরু হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বাগানে প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। এ জন্য সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। একদিকে দর্শনার্থী, অন্যদিকে পাইকাররা লিচু ক্রয় করতে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছি।
বাগান মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, আগে এত মানুষ লিচু বাগানে আসতেন না। গত কয়েক বছর ধরে অসংখ্য মানুষ আসছেন লিচু বাগান দেখতে। তবে যারা লিচু বাগান দেখতে আসছেন, তাদের বেশিরভাগ লোকজনই কিনছেন। সব মিলিয়ে লিচু বাগান এলাকা যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।