ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের তেলি সালথা গ্রামের প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত আব্দুল কুদ্দুস মাতুব্বরের বাড়িতে। এ ঘটনায় আটককৃতদের কারাগারে পাঠানো রয়েছে। তবে পতালক রয়েছেন জোয়াদ্দরের ছেলে আমিনুল জোয়াদ্দার। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এখনো অসুস্থ হয়ে বাড়িতে কাতরাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আলমগীর মাতুব্বর বলেন, কয়েক বছর ধরে আমার বাবা আব্দুল কুদ্দুস মাতুব্বর প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও ভালো করতে পারিনি। একপর্যায় পরিবার পক্ষ থেকে তাকে কবিরাজী চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী মোড়হাট গ্রামের আফসার শেখ নামে এক ব্যক্তি আমাদের বাড়িতে এসে বলে, আমার পরিচিত দুজন কবিরাজ (ফকির) আছে, তারা প্যারালাইসিস ভালো করতে পারে।
.png)
পরে আফসারের কথামতো গত ১৬ মে কবিরাজ রবি আমিনুলকে খবর দিয়ে আমাদের বাড়িতে আনি। তারা (কবিরাজরা) এসে আমাদের বলেন, আপনাদের বাড়ির সকলকে জ্বীনের আসর করেছে। তাই আপনার বাবার রোগ ভালো হচ্ছে না। আগে সকলের জ্বীন ছাড়াতে হবে। জ্বীন ছাড়ানোর পর আপনার বাবা ভালো হয়ে যাবে। জ্বীন আমরাই ছাড়াতে পারি। এই জন্য বাড়িতে আসর বসিয়ে সকলকে তবারক খাওয়াতে হবে। পর দিন ১৭ মে গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে আসর বসিয়ে তবারক তৈরি করেন তারা। এরপর তাদের তৈরি তবারক পরিবারের সকলকে খাওয়ানো হয়। তবরাক খাওয়ার পরপরই সবারই ঘুম ঘুম ভাব আসে। একপর্যায় সবাই যার যার মতো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
তিনি আরো বলেন, এই সুযোগে কবিরাজরা আমার ঘরের আলমারী ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা, ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও দুটি মোবাইল ফোন লুটে নিয়ে যান। পরে বড় ভাইয়ের ঘরে ঢুকে ভাবির গলার চেন ধরে টানাটানি করলে তিনি ঘুম থেকে উঠে পড়েন। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় এগিয়ে এলেও আমরা সবাই অচেতন অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সালথা বাজার থেকে আফসার ও কবিরাজ রবিউল শেখকে আটক করে মারধর দিয়ে পুলিশে দেন। তবে আরেক কবিরাজ আমিনুল পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আমি, আমার স্ত্রী সালেহা বেগম, মা নবিরুন বেগম, ভাই কবির মাতুব্বর, ভাবি শারমিনসহ আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই এখনো পুরোপুরি অসুস্থ হয়নি। সবাই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। এ ঘটনায় আমরা অসুস্থ ও অচেতন থাকায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন আমার চাচা মান্নান মাতুব্বর।
সালথা থানার ওসি মো. শেখ সাদিক বলেন, তারা মূলত চোর। টাকা ও স্বর্ণালকার নিয়ে পালাতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়লে পুলিশ চুরি হওয়া সবকিছু জব্দ করে। পরে অভিযুক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।