ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোর প্রধান ডাকঘরের দু’কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে সাবেক পোস্টমাস্টার

যশোর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৬ মে ২০২৩
যশোর প্রধান ডাকঘরের দু’কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে সাবেক পোস্টমাস্টার
যশোর প্রধান ডাকঘরের সাবেক পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকী স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক হওয়া যশোর প্রধান ডাকঘরের সাবেক পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকী স্বপনের ৪০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা ব্র্যাক ব্যাংক যশোর শাখার হিসাব নম্বর স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পোস্ট অফিসের আর্থিক লেনদেন স্থগিতের আদেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী আফরোজা সুলতানার হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

দুদকের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলামের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দিয়েছেন।

পিপি সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রধান ডাকঘরের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় আটক সাবেক পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকী স্বপনের ব্র্যাক ব্যাংক যশোর শাখার হিসাবে ৪০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা রয়েছে। যা দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। তার স্ত্রী আফরোজা সুলতানার নামেও প্রধান ডাকঘরের হিসাবে আরো দুই লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে বলে প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। 

Advertisement

তিনি জানান, ব্র্যাক ব্যাংকে তার নামে থাকা একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে জেলে থাকা অবস্থায় এটিএম কার্ড ব্যবহার করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। বর্তমানে ঐ অ্যাকাউন্টে ৬৩ হাজার টাকা জমা রয়েছে। এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসায় এ তিনটি হিসাব স্থগিতের আবেদন করা হলে বিচারক আদেশ মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি শেখ মোহাম্মদ আলী নামে যশোর প্রধান ডাকঘরের এক আমানতকারীর হিসাব বই দিয়ে জালিয়াতি করে ১৩ লাখ টাকা উঠানোর চেষ্টার সময় ডিপিএম মেহেরুন্নেছার কাছে ধরা পড়ে বাকীর জালিয়াতির কারবার। এরপর তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক কোটি ৭৮ লাখ পাঁচ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এ মামলায় আব্দুল বাকী বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। এ বিষয়ে ডাক বিভাগ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

এছাড়া বাকীর ঘনিষ্ঠ সহকারী যশোর প্রধান ডাকঘরের কম্পিউটার অপারেটর আক্কাস সিকদার ও পোস্টাল অপারেটর করিমুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। এ তিনজনকে অভিযুক্ত করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে ডাক অধিদফতরে। অন্যদিকে এ মামলায় দুদক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, তাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলা সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: যশোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!