ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ : চট্টগ্রামে প্রস্তুত ১১২০ আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪০, ১২ মে ২০২৩
এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ : চট্টগ্রামে প্রস্তুত ১১২০ আশ্রয়কেন্দ্র
এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নগর ও উপজেলাগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এক হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর পাশাপাশি ৯০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ফলে সব মিলিয়ে এক হাজার ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে চট্টগ্রামে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩০টি স্থায়ী ও ৫০০টি অস্থায়ী। যেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন পাঁচ লাখ এক হাজার ১১০ জন মানুষ। এছাড়া আট হাজার ৮৮০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে আরো আট হাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরঞ্জামসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নেভি ও কোস্ট গার্ডের রেসকিউ বোট এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

এক হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ফটিকছড়িতে অস্থায়ী ১১২টি, হাটহাজারীতে ১৮টি, মীরসরাইয়ে স্থায়ী ৮৫টি, রাঙ্গুনিয়ায় অস্থায়ী ২১৭টি, রাউজানে স্থায়ী দুটি, সন্দ্বীপে স্থায়ী ১১৬টি স্থায়ী, সীতাকুণ্ডে স্থায়ী ২৫টি, বাঁশখালীতে স্থায়ী ১২২টি, বোয়ালখালীতে স্থায়ী আটটি, চন্দনাইশে স্থায়ী ছয়টি, পটিয়ায় অস্থায়ী ১২৬টি, সাতকানিয়ায় স্থায়ী চারটি, আনোয়ারায় স্থায়ী ৫৮টি, লোহাগাড়ায় অস্থায়ী ২৮টি ও কর্ণফুলীতে স্থায়ী ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নগদ অর্থের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। 

Advertisement

এছাড়া নগরীর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯৪টি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। মজুদ করা হয়েছে ৬০৮ মেট্রিক টন চাল। শুকনা খাবারের মধ্যে তিন দশমিক পাঁচ মেট্রিক টন টোস্ট বিস্কুট, তিন দশমিক চার শূন্য দুই মেট্রিক টন ড্রাই কেক, ৩০ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন ও ৬০ হাজার প্যাকেট পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর শুক্রবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরো ঘণীভূত হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরসমূহকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, পৌর ও ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটির সভা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!