২০১৯ সালে এসে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর আগে স্থায়ী একটি বেড়িবাঁধ দেখার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন আবদুস সালাম। কিন্তু ঐ বছরই পরপারে পাড়ি জমান তিনি।
সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ। চট্টগ্রামবাসীর স্বজন হারানোর দিন। ৩২ বছর আগে এ দিনে চট্টগ্রামের উপকূল দিয়ে দুঃস্বপ্নের মতো বয়ে গিয়েছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ‘ম্যারি এন’। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা। তলিয়ে গিয়েছিল কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও উখিয়া-টেকনাফের উপকূলীয় এলাকা।
.png)
৩২ বছর আগের দুঃসহ সেই স্মৃতি এখনো কাঁদায় স্বজনহারা মানুষদের। প্রতি বছরের ন্যায় আবারো উপকূলীয় মানুষের কাছে ফিরে এসেছে দিনটি। তবে ফিরে আসবে না হারিয়ে যাওয়া স্বজনরা।
সেদিন মধ্যরাতে ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২২৫ কিলোমিটার গতিবেগের ঘূর্ণিঝড় ও ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা পরিণত হয়েছিল বিরাণভূমিতে। ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি হয়েছিল প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মানুষের। যদিও সরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৮ হাজার। সম্পদহানি হয়েছিল চার হাজার কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত নয়টি ইউনিয়ন। প্রায় ২২৫ কিলোমিটার গতিবেগ সম্পন্ন ও ৩০-৩৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে উপকূল পরিণত হয়েছিল বিরাণ ভূমিতে। ঐ সময় মারা গিয়েছিল এলাকার প্রায় সাত হাজার মানুষ। আর নিখোঁজ হয়েছিল প্রায় তিন হাজার শিশু-নারী-পুরুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় তিনশত কোটি টাকার সম্পদ।
সলিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব মো. মোস্তফা বলেন, ১৯৯১ সালের ঐ দিনটি ছিল আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। সব জায়গায় একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্মাণ করা হচ্ছে বেড়িবাঁধ। তৈরি করা হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টার। এছাড়াও মানুষকে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৩২ বছর আগের সেই দিন এখন আর নেই। তবে অনেক মানুষ স্বজনহারা হয়েছে। অনেকে সম্পদহারা হয়েছে। দিনটি এলে তাদের সেই কথাগুলো মনে পড়ে। আমরা সেসব মানুষের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে বলা চলে- এখন আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত।