চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাল চাষ দিয়ে বোরো ধান আবাদ করেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে কৃষকরা জমিতে সঠিক সময় পর্যাপ্ত পানি পেয়েছে। এছাড়া কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ প্রদান প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত সার পাওয়ায় কৃষকদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এতে ভালো সময়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পৌরশহরসহ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ মেট্রিক টন ধান। কেন্দুয়ায় বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, হীরা, হাইব্রিড ৭৫, ৮১, ৯১, সবুজ সাথী, এসএলএইডএইচ, জাগরণীসহ বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ হয়েছে।
.png)
মোজাফফরপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিল্কি জানান, এ মৌসুমে আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন তিনি। ফলন বৃদ্ধিতে শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তারা তাকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শসহ সহযোগিতা করেন। এ পর্যন্ত আগাম দুই বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান ঈদের দ্রুতই কাটা হবে।
তিনি আরো জানান, সার-সেচসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ায় এ বছর তার জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করায় প্রতি বিঘায় তিনি ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাবেন বলে আশা করছেন।
গন্ডা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, এ মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ করেছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার তার জমিতে ভালো ধান হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি আগাম জাতের দুই বিঘা জমির ধান কেটেছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি ভালো লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, মৌসুমের শুরুতে সরকারিভাবে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় সাত হাজারের বেশি কৃষককে উফশী ধানের বীজ, ডিএপি সার ও এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এতে এ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।