তবে বিনোদন প্রেমী লোকজন ওইসব স্থানে একত্রিত হওয়ায় যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ও বিনোদন প্রেমী লোকদের আনন্দ,হৈহৈল্লুর যেন ধমিয়ে রাখা যায়নি। তবে বিনোদন পিয়াসিদের কাছে ঘুরাঘুরির সব চাইতে ভালো স্পট হিসাবে পছন্দের তালিকায় ছিল তিতাস ব্রিজ এলাকা ও স্থল বন্দর। এদিকে তিতাস ওপর দিয়ে ব্রিজ ও ডাবল রেল লাইন হওয়া এবং নদীর পাড়ে দক্ষিণা হাওয়া আর নির্ভেজাল নিশ্বাসে দর্শনার্থীদের যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পরন্ত বিকেলে অপূর্ব মায়াভরা সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসা লোকদের মুগ্ধ করে তুলে। এ সময় তিতাস পাড়ে পরন্ত বিকেলে প্রিয় জনদের সঙ্গে উৎসব মুখর সময় পার করতে দেখা যায়। এই সুন্দর মুহূর্তগুলো কেউ কেউ ক্যামেরা বন্দি করে রেখেছেন।

.png)
দর্শনীয় স্থানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম-আখাউড়া-চট্টগ্রাম-আখাউড়া-সিলেট রেলপথের আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে তিতাস নদীর পাড়ে এ তিতাস রেলওয়ে ব্রিজটি অবস্থিত। তাছাড়া এই ব্রিজ থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে হয়রত শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ) মাজার শরীফ।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে এই দর্শনীয় স্থানটিতে দিন দিন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিলে মুক্ত হাওয়ায় আড্ডা দিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকছে। তাছাড়া ঈদসহ বিশেষ বিশেষ দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়েছে।
সরেজমিনে তিতাস পারে গিয়ে দেখা যায়, ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। তারা মাতিয়ে তুলেছেন পুরো এলাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন করে আখাউড়া, বিজয়নগর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।
এর মধ্যে কেউ স্ত্রী-ছেলে নিয়ে, কেউ বা এসেছেন পরিবারের সদস্য নিয়ে,আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে। বিকেল থেকেই তরুণ-তরুণীরা আড্ডা ,গান বাজনা আনন্দ আর হৈচৈ শুরু করে।
সদর উপজেলার ভাতশালা এলাকা ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদ করতে ঢাকা থেকে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে গত দুদিন আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছি। ঈদের দিন পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। তিতাস পাড়ে পড়ন্ত বিকেলে মুক্ত বাতাস আর নয়নাভিরাম দৃশ্য খুবই ভালো লেগেছে।
সুলতানপুর এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, সারা দিন ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় কোথাও বের হওয়া যায় না। ঈদ উপলক্ষে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে ও বোনকে নিয়ে সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ নিয়ে আসা। সবাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত এখানে থেকে খুবই মজা করেছে।

বিজয়নগর এলাকার প্রবাসী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আখাউড়া স্থলবন্দরে বিজিবি ও বিএসএফর যৌথভাবে নিজ নিজ দেশের পতাকা নামানোর কথা লোকমুখে শুনে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে এখানে আসা। এখানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে তাদের খুবই ভালো লেগেছে।
ব্যাংকার ইয়াসমিন আক্তার বলেন, চাকরির জন্য এলাকার বাহিরে থাকতে হয়। ঈদ ছুটি পাওয়ায় মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছি। বাড়ির লোকদের সব সময় পাওয়া যায় না। তাই তাদের নিয়ে তিতাস ব্রিজ এলাকা, স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্মৃতি হিসাবে ছবি তুলে রাখলাম।
উপজেলার আজমপুর এলাকার মো. সাব্বির হোসেন বলেন, গত ৫ দিন আগে ঈদ করতে দেশে এসেছি। এখন পযর্ন্ত কোথাও যাওয়া হয়নি। তাই স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে স্থলবন্দর ও মনিয়ন্দ এলাকায় ঘুরতে এসেছি।