বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড় ময়দান থেকে ডিসি মো. শাহগীর আলম ও এসপি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। পরে শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি ফারুকী পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
.png)

মঙ্গল শোভাযাত্রা অংশ নেওয়া আবেদ, লিজা, অয়ন বলেন, এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব। ইউনোস্কো পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্যতম উৎসবের স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই আমরা প্রতিবছর বাঙালির সার্ববজনীন এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকি।
এদিকে লাঠি খেলায় অংশগ্রহণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল জানান, হাজার বছরের সাংস্কৃতির অংশ লাঠি খেলা। এটি বিলুপ্তির পথে। এই খেলাটি যেন বছর জুড়ে টিকে থাকে এ জন্যে আমাদের এ প্রয়াস।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা জানান, এটি অসম্প্রদায়িক চেতনার একটি মিলন মেলা। আমাদের বাঙালিদের মিলন মেলা। যেখানে ধর্ম বর্ণের কোনো কোনো ভিন্নতা নেই। যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক বাঙালির প্রাণের উৎসব। সকল অশুভ শক্তি অন্ধকারে বিলীন হয়ে নবজাগরণে আলো ফুটে উঠুক মানব হৃদয়ে।
ডিসি মো. শাহগীর আলম জানান, বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির সর্বজনীন উৎসব। পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, বাঙালির মহামিলনের দিন। এ দিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নতুনরূপে প্রাণবন্ত হয়ে। বিগত বছরের দুঃখ-গ্লানি-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে সবাইকে নব-আনন্দে নতুন বছরকে বরণ করতে উদাত্ত আহবান জানান তিনি।
এদিকে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের ফারুকী পার্কে বসেছে লৌকজ মেলা। মেলার মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। এসময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সমবেত শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় এসো হে বৈশাখ সুরে-সুরে বর্ষবরণ সংঙ্গীত। সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলায় লাঠি খেলা, মোরগ লড়াই, সাপ খেলা, নাগর দৌলা, পুতুল নাচ ও মাটির তৈরি তৈজসপত্রের দোকান নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এতে শিশু কিশোরসহ সব বয়সী সাধারণ মানুষ আনন্দে মেতে উঠে।