তিনি একটি খন্ডকালীন স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজে করে থাকেন। কাজটি তিনি করছেন প্রায় ৩৫ বছর ধরে। গ্রামের হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা বেতনে ছবি আঁকা শেখানো এবং তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে দিয়ে থাকেন প্রাথমিক শিক্ষা।
কথা হয় মাগুরা সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডি গ্রামের খোলা আকাশের নিচে মেহগনি গাছের ছায়া শীতল পরিবেশে খুদে আঁকিয়েদের সঙ্গে। মাইমুনা, মরিয়ম, সাকিব, সিয়াম, আরাফাত, সামিউল, মারুফ, আপন, আফসানা, মিম, রনি, রোযা, আলামিন, রাব্বি, মদিনা, জাহিদ, আলিফ, সাদিক, মাহিম, সেতু, মাবিয়া, জাকিয়া, ফাতেমা, বৃষ্টি, হামিম, আলহাজ, জুবা, হাবিব, আলিমুল, আলিফসহ অন্যরা বলেন, পান্না স্যার ছবি আঁকা শেখানোর মাধ্যমে আমাদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন। যে কারণে তিনি আমাদেরকে আদর করে বন্ধু বলে ডাকেন এবং আমরাও তাকে বন্ধু বলে ডাকি। তিনি আমাদের ছবি আঁকানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা, বড়দের সম্মান ও সব সময় ভালো কাজ করতে বলেন।
.png)
শামছুজ্জামান পান্না জানান, আমি যে শিশুদের নিয়ে কাজ করি, তারা খুবই দরিদ্র পরিবারের। অভিজাত পরিবারের সন্তানগুলোর মতো তাদের পিতা-মাতার সামর্থ্য নেই তাদেরকে ভালো শিক্ষক দিয়ে আর্ট শেখানোর। আমি চেষ্টা করি সেই সব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করতে এবং সেটা আমি স্বেচ্ছাশ্রমে করে থাকি।
তিনি আরো বলেন, পাশাপাশি তাদের উৎসাহ দেই ভালো মানুষ হতে। আমার সামর্থ্য মতো তাদের খাতা, পেন্সিল, কলম, আর্ট পেপার, রং উপহার দেই। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবে জামা কাপড় উপহার দেই। এ ব্যাপারে আমার বন্ধুরাসহ অনেকেই আমাকে সহযোগিতা করেন। যতদিন বেঁচে থাকব আমার এ কাজ অব্যাহত থাকবে।

কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক শামীম খান বলেন, শিশুদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা পান্নার। এই ভালোবাসা থেকেই তিনি গ্রামে-গ্রামে ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে ছবি আঁকা শিখিয়ে আসছেন। ছবি আঁকার মাধ্যমে তিনি শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশত্ববোধ জাগ্রত করে চলেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাস তার সেই কাজে বাধ সাধলেও তিনি পিছু হটেননি। ছবি আঁকা শেখানো বাদ দিয়ে সে সময় তিনি মাগুরা সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডি, করচাডাঙ্গা গ্রামসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শতাধিক শিশুর মুখে প্রায় দুই বছর ধরে তুলে দিয়েছেন খাবার। এটি নিঃসন্দেহে তার একটি মানবিক কাজ।
মাগুরার ইতিহাস ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা গবেষক ডা. কাজী তাসুকুজ্জামান বলেন, শামছুজ্জামান পান্নার হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের এস এম সুলতান। চিত্রশিল্পী শামছুজ্জামান পান্না সেচ্ছাশ্রমে প্রায় তিন যুগ ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। এতে এইসব শিশুদের মাঝে সাংস্কৃতির বিকাশ যেমন ঘটছে, তেমনই ভাবে শিশুদের মাঝে মেধা মননশীলতার বিকাশ ঘটছে। এতে পান্নার আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা। শামছুজ্জামান পান্না অবশ্যই গুণী একজন মানুষ। তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করার মতো এমন মানুষ খুব একটা চোখে পড়ে না। আমরা ছাত্র জীবন থেকেই দেখছি পান্না মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তার ইতিবাচক কর্মকান্ডে মানুষকে মানবিকতার পথ দেখাচ্ছে।