রোববার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন। সাজাপ্রাপ্ত শিমুল ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইশাননগর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মথুরনাথ সরকার জানান, খন্দকার সাইফুল ইসলাম কমল পার্শ্ববর্তী তালেবপুর গ্রামের ফয়েজ আহম্মেদের সঙ্গে জমির ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে ফয়েজের ভাগনে শিমুলের সঙ্গেও কমলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে কমলের বাড়ি আসেন শিমুল। পরে তারা দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকাল ৫টার পর ফয়েজ ফোন করে জানান কমল ধামরাই এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কমলের লাশ বাড়িতে আনা হয়। সেদিন রাত ১২টার দিকে কমলের লাশ দাফন করা হয়।
.png)
পরের দিন কমলের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে- শিমুল এবং তার মোটরসাইকেলটিও সম্পূর্ণ অক্ষত আছে। কোথায় কীভাবে কমল দুর্ঘটনাকবলিত হন- সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হন শিমুল। এমনকি ধামরাই থানায়ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে কোনো অভিযোগ বা সংবাদ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে কমলের পরিবার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করে। পাশাপাশি কমলের বাবা খন্দকার মো. রেজাউল ইসলাম সিংগাইর থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলাল হোসেনের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সিংগাইর থানার তৎকালীন এসআই মো. মিরান হোসেন মৃধা। ঐ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদী পক্ষ নারাজি দিলে পরবর্তীতে সিআইডি এ মামলা পুনরায় তদন্ত করে। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিআইডির তৎকালীন এসআই কাজী আবদুল আওয়াল ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় এ রায় দেন বিচারক। বাকি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।