পরে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার রায়লক্ষ্মীপুর গাবতলার মাঠে সেচ পাম্পের পাইপের মধ্যে থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় ফন্টু মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। ফন্টু মন্ডল উপজেলার পোলবাগুন্দা গ্রামের মৃত ইসলাম মন্ডলের ছেলে।
জানা যায়, ৩৬ বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নওলামারি গ্রামের মনছেন আলির মেয়ে ডালিমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফন্টু মন্ডলের। তাদের দুই সন্তান মেয়ে সারজিনা খাতুন ও ছেলে জামিরুল ইসলামকে কয়েক বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন।
.png)
আলমডাঙ্গা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, পোলবাগুন্দা গ্রামের স্কুলপাড়ার শের আলির সাবেক স্ত্রী টগি খাতুনের সঙ্গে ফন্টুর দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রায় বছর খানেক আগে শের আলি তার স্ত্রী টগি খাতুনকে তালাক দেন। এরপর ফন্টু মণ্ডল তার স্ত্রী ডালিমার নামে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন করে টগি খাতুনকে নিয়ে পালিয়ে যান। ৭ মাস আগে আবার বাড়ি ফেরেন ফন্টু। এরপর সব কিছু ঠিকঠাক চললেও গত মঙ্গলবার ফন্টু মণ্ডল বাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে পরকীয়া প্রেমিকা টগিকে টাকা পাঠান। পরে স্ত্রী ডালিমা খাতুন তাকে টাকার কথা বললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী ফন্টু।
একপর্যায়ে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিনমজুর ফন্টু মণ্ডল স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। তবে রাতে তিনি বাড়িতে ফিরলেও তার স্ত্রী বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন তাকে সকালে কোদাল নিয়ে মাঠ থেকে ফিরতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। দুপুরের পর গা ঢাকা দেন ফন্টু ।
এরপর ছেলে জামিরুল গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তার মায়ের খোঁজ করতে থাকেন। বিকেলের দিকে পার্শ্ববর্তী রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের গাবতলার মাঠের একটি ভুট্টাক্ষেতে রক্ত ও চুল দেখতে পান গ্রামবাসী। ওই মাঠে সোলার প্যানেলের সেচ পাম্পের পাইপের ভেতরে একটি মরদেহের অংশ বিশেষও দেখা যাচ্ছিল। পাশেই রক্ত ও মাথার চুল পড়ে আছে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থাকা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। মরদেহ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের খবর দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পাইপের মধ্যে থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় নেয়া হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফন্টু মণ্ডল তার স্ত্রীর গহনা বিক্রি করতে আসেন সরোজগঞ্জ বাজারে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই সরোজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশ তাকে আটক করে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরকীয়া পেমিকার সঙ্গে মেলামেশায় বাধা দেওয়ায় কারণে স্ত্রীকে হত্যার পর সোলার প্যানেলের সেচ পাম্পের পাইপের মধ্যে ফেলে দেন। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।