ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৪ লাখ টাকায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪০, ১৩ মার্চ ২০২৩
৪ লাখ টাকায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা
নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের প্রেস কনফারেন্স- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অটোরিকশা চালক আব্দুল হাকিমকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার পশ্চিম চরমটুয়া গ্রামের মো. মমিন উল্যার ছেলে মো. মহিন, পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের রেজিয়াগো বাড়ির আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কামাল ওরফে কামাল ডাকাত, হারুন মোল্লা বাড়ির আনোয়ারুল হক নশুর ছেলে মো. আজাদ হোসেন, পশ্চিম চরমটুয়া গ্রামের অজি উল্যাহ পাটোয়ারী বাড়ির শাহজাহানের ছেলে রিপু মিয়া আক্কাস সওদাগর বাড়ির আক্কাস সওদাগরের ছেলে জাহিদ হাসান, পশ্চিম চরমটুয়া গ্রামের মাহফুজের বাপের বাড়ির মো. সেলিমের ছেলে সোহেল হোসেন ওরফে শাকিল, একই গ্রামের দোকান বাড়ির মকবুল আহমেদের ছেলে মমিন উল্যাহ এবং পাটোয়ারী বাড়ির অজি উল্যার ছেলে নূর আলম মিস্ত্রি।

পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীর সঙ্গে নিহত অটোরিকশা চালক আব্দুল হাকিমের পূর্ব শত্রুতা ছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আব্দুল হাকিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অর্থের লোভ দেখিয়ে আব্দুল হাকিমের অটোরিকশার মালিক মহিমকে ব্যবহার করা হয়।  ঘটনার দিন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পরিকল্পনা হিসেবে মহিম তার বাড়িতে কামাল, রিপু, মোমেন, নূর আলমসহ আরো কয়েকজনকে (তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না) নিয়ে অবস্থান করে। মহিম ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিমকে অটোরিকশা রাখার কথা বলে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নেন।

তিনি আরো জানান, এরপর আব্দুল হাকিম মহিমকে অটোরিকশা জমা দেওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী অজ্ঞাত আরো চার থেকে পাঁচজন মিলে আকস্মিক তার মুখ বেঁধে ফেলেন। পরবর্তীতে আসামিরা তাকে উপজেলার ১৯নং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরমটুয়া গ্রামের সফিগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ রাস্তার পূর্ব পাশে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির পেছনে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন। গ্রেফতারকৃত রিপু ও অপর একজন লাশ পুঁতে রাখার জন্য শাবল, কোদাল ও বস্তা নিয়ে যান। একপর্যায়ে আসামিরা লাশ বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে মাটি চাপা দেন।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তকালে আসামি সোহেলের ভাষ্যমতে আসামি রিপুর বাড়ি থেকে শাবল ও কোদাল উদ্ধার করা হয়। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হত্যাকাণ্ড সংগঠনের জন্য আসামি মহিমের সঙ্গে চার লাখ টাকা চুক্তি করেছিলেন।  

আসামি রিপু ও সোহেল ওরফে শাকিল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। গত শনিবার ও রোববার বিকেলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!