এ ঘটনায় জামাইসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে লালমোহন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্বাশুড়ি রূপজান বেগম। প্রায় তিন বছর আগে রূপজানের স্বামী মারা যান।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে রূপজান বেগম জানান, আমার মেয়ের সঙ্গে চরভূতা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এলাকার নূরুল ইসলামের ছেলে মো. মনির হোসেনের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে সেতু বেগমকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন মনির। যার জন্য অনেকদিন ধরে আমার মেয়ে তার সন্তান নিয়ে আমাদের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন মনির।
.png)
অভিযোগে রূপজান আরো উল্লেখ করেন, গত বুধবার (৮ মার্চ) বিকেলে মনিরসহ কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে সেতু ও তার সন্তানকে নিয়ে টানাটানি করেন। তখন স্থানীয়রা এসে মনিরসহ তার সঙ্গের লোকজনকে পাঠিয়ে দেন। তবে যাওয়ার সময় আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। পরে আমরা রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে যাই। এর কিছুক্ষণ পরে ঘরে আগুন দেখে আমরা চিৎকার করলে এলাকাবাসী এসে আগুন নেভাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসও আসে। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিভলেও ছাই হয়ে যায় পুরো বসতঘর। এতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
রূপজানের মেয়ে সেতু বেগম জানান, স্বামী মনির আমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। যার জন্য আমি বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিই। এখানেও এসে মনির আমাকেসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করার হুমকি দেন। গত বুধবার বিকেলেও এসে হুমকি দিয়ে যান মনির। রাতেই আমাদের বসতঘরে আগুন লাগে। এ সময় স্থানীয়রা মনিরসহ কয়েকজনকে অগ্নিকাণ্ডের পরপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করবো।