রোববার দুপুরের দিকে পুলিশের সহায়তায় আবু জাফর পালিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্ররা ধরধর বলে তাড়া দেন। এ সময় তিনি ছাত্রদের তাড়া খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে মাদরাসা ত্যাগ করেন।
এর আগে মাদরাসার অফিস ও প্রতিটি রুমে তালা লাগিয়ে ক্লাস বর্জন করে তার বহিষ্কার দাবি করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ‘আমাদের মাদরাসা সুপারের বহিষ্কার চাই, আমাদের দাবি মানতে হবে।’ লেখা সম্বলিত লিফলেট মাদরাসার প্রধান ফটক, প্রতিটি ক্লাসের সামনে, শিক্ষক মিলনায়তন ও মাদরাসা সুপারের অফিস রুমের সামনে লিফলেট লাগিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।
.png)
এদিকে মাদরাসা সুপার আবু জাফরের দাবি, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। যে তারিখের (২ মার্চ) ঘটনা বলা হচ্ছে সে সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।
মাদরাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন? উত্তরে সুপার আবু জাফর বলেন, তারা কি বলছেন সেটি তাদের ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে তারা বারবার ষড়যন্ত্র করছে।
এর আগে সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সহায়তায় মাদরাসার সুপারের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সুপারকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সংবাদ পেয়ে গাংনী থানার এসআই মাসুদুর রহমান, বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ইসরাফি হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে অফিস কক্ষের তালা ভেঙে তাকে মুক্ত করেন। পরে এসআই মাসুদুর রহমানের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা মাদরাসা ও অফিস কক্ষের তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
মাদরাসা সুপার আবু জাফরের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মোবাইলে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে ওই কর্মসূচি পালন করে ছাত্র-ছাত্রীরা।
নবম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, গত বৃহস্পতিবার আমার এক বান্ধবীকে তার রুমে ডেকে নেন। পরে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া তার থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফোনে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন এবং নানা ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিষয়টি জানার জন্য আমরা সবাই তাকে চাপ দিলে সে বিষয়টি খুলে বলে।
ছাত্রীদের অভিযোগ, মাদরাসার সুপার আমাদের হিজাব খুলে প্যান্ট পরে আসতে বলেন। এছাড়া বিভিন্ন দিবসে শাড়ি পরে আসার নির্দেশ দেন। আমরা তার মেয়ের মতো, তারপরেও এসব ভাষায় কথা বলেন তিনি। এ সময় মাদরাসা সুপার আবু জাফরের বিচার দাবি জানান তারা।
করমদী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, বারবার তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার হওয়া উচিত। এ সময় ওই সুপারের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
ওমর আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, মেয়ে মানুষ দেখলেই তার মাথা খারাপ হয়ে যায়। কেউ কিছু বললেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানান। আমাদের কি দায় পড়েছে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার।
গাংনী থানার এসআই মাসুদ বলেন, সকালের দিকে মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে অধ্যক্ষ আবু জাফরকে একটি কক্ষে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। আমরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করি। পরে সুপারকে তালা ভেঙে উদ্ধার করি।
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাশার বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ওই মাদরাসার শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। বিভিন্ন ছাত্রীদের তিনি উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ করেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে মাদরাসা বোর্ডে যৌথভাবে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাবো।