বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সহযোগিতায় বাবাকে ফিরে পেয়েছেন ধামইরহাট উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মেয়ে সাবিনা এক্কা।
সোমবার রাত ৯টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ১৬৪ (বিএসএফ) আওতাধীন ডাংগী বিএসএফ ক্যাম্প পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সীমান্ত পিলার ২৬০/৭-এস এর নিকট হস্তান্তর করেন। মঙ্গলবার ভোরে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
.png)
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবিনা এক্কা’র বাবা যতিন্দ্রনাথ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ১৭ বছর পূর্বে নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সাবিনা লোক মারফত জানতে পারেন তার বাবা ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থানার রায়নগর গ্রামের মন্দিরে অবস্থান করছেন। এরপর পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হামিদ উদ্দিনের কাছে বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে সহযোগিতা কামনা করেন।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হামিদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ১৬৪ (বিএসএফ) আওতাধীন ডাংগী বিএসএফ ক্যাম্পকে অবগত করা হয়। তারাও মানসিক ভারসাম্যহীন যতিন্দ্রনাথকে ফিরিয়ে দিতে আশ্বস্ত করেন। পরে সোমবার রাত ৯টায় সীমান্ত পিলার ২৬০/৭-এস এর নিকট বিএসএফ সদস্যরা তাকে হস্তান্তর করেন। এরপর যতিন্দ্রনাথকে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
যতিন্দ্রনাথের মেয়ে সাবিনা এক্কা বলেন, তারা দুই ভাই ও দুই বোন। বড় বোন মিন্না এক্কা। ২০০১ সালে সে দশম শ্রেণিতে পড়ত। হঠাৎ করেই বড় বোন অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বোন মারা যাওয়ায় পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েন। বাবা ও মা খিরতি রানী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাবা অনেক সময় উল্টাপাল্টা ও অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। ২০০৬ সালের একদিন কাউকে কিছু না বলেই প্যান্ট-শার্ট পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি।
সাবিনা বলেন, আমার স্বামী নারায়ণ চন্দ্র তার চিকিৎসার জন্য ৪/৬ মাস পরপর ভারতে যান। চিকিৎসা শেষে যতটুকু সময় পান বিভিন্ন এলাকা ও মন্দিরে খোঁজ খবর নেন এবং মানুষদের ছবি দেখান। এক সময় বাবার ছবি দেখে স্থানীয়দের একজন চিনতে পারেন। পরে বালুরঘাট রায়নগর কালিমন্দিরের বারান্দায় বাবার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে খড়ের মধ্যে শুয়ে ছিলেন। পরে স্বামী ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবাকে দেখান এবং নিশ্চিত হতে পারি। পরে বিজিবিকে বিষয়টি অবগত করা হলে তারা বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
দীর্ঘ বছর পর বাবাকে এভাবে ফিরে পাবো তা কখনোই ভাবিনি। বিজিবি ও বিএসএফ’র সহযোগিতায় রাতে বাবাকে ফিরে পেয়েছি। যখন বাবাকে কাছে পেলাম তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি।