ওইসব পশু পাখির মধ্যে আগত লোকদের দৃষ্টি কাড়ছে গাড়ল, বিড়াল আর খাড়িয়ানা খাসি (ছাগল) । ওইসব দেখতে সবাই স্টলে ভিড় করছেন। এমন দৃশ্য দেখা যায় শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের আয়োজনে দিন ব্যাপী প্রদর্শনীতে। জাঁকজমকপূর্ণ এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পশু পাখি।
এ মেলায় ২৯ টি স্টল বসে। গরু, ছাগল, খাসি, ভেড়া, কবুতর, বিড়াল, খরগোশসহ নানা প্রজাতির পশু উঠলেও সবার নজর কাড়ছে গাড়ল, বিড়াল আল খাসির। এরমধ্যে ৩টি গাড়লের ওজন রয়েছে ৬০ কেজি। আর খাসির ওজন রয়েছে ৬২ কেজি আর আইরিশ জাতীয় সাদা আকৃতির বিড়াল।
উপজেলার মোগড়া ইউপির নয়াদিন গ্রামের মো. মুরাদ মিয়া বলেন, প্রদর্শনীর খবর পেয়ে তিনি ছোট বড় ৪ টি গাড়ল নিয়ে এসেছেন। এরমধ্যে ২টি গাড়লের ওজন রয়েছে ৬০ কেজি। এই দুটির বয়স মাত্র ১ বছর। সঙ্গে প্রদর্শনীতে রয়েছে আরো ছোট আকৃতির ২টি গাড়ল।
তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে গাড়ল লালন পালন করছেন। তার খামারে ১৬টি গাড়ল রয়েছে। এটি হচ্ছে সব চাইতে বড় গাড়ল। এটি দেশীয় খাবার খায় বলে জানায়। প্রদর্শনীতে গাড়ল দেখতে সবাই ভিড় করছেন।
খাসি নিয়ে প্রদর্শনীতে আসা পৌর শহরের দুর্গাপুর এলাকার মো. গোলাম মাওলা জানান, তিনি গত দুই দিন আগে খবর পেয়েছেন এখানে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তাই শখের বসে ঘরে পালন করা এই খাসিটি প্রদর্শন করতে মেলায় নিয়ে আসা হয় বলে জানায়। তার এই খাসির বয়স ১১ মাস। ওজন ৫৫ কেজি। এটি হারিয়ানা প্রজাতির। এই খাসিটিকে ছুলা বুট, গম, কাট বাদাম, কাজু বাদাম, ভুষি, চিটাগুড়, ঘাস লতা পাতা খাওয়ানো হয়। এটি লালন পালনে দৈনিক তার ৪০ টাকার খাবার লাগছে।
.png)
পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম তুরান জানান, প্রাণি সম্পদ কর্তৃক প্রদর্শনীর খবর পেয়ে তিনি একটি বড় আকৃতির বিড়াল ও একটি খরগোশ নিয়ে এসেছেন। বিড়ালটির নাম রাখা হয়েছে আইরিশ। এটি পার্সিয়ান জাতের। আজ থেকে দেড় বছর আগে ৩ মাস বয়সী এই বিড়ালটিকে ২০ হাজার টাকায় তিনি ক্রয় করে লালন পালন করছেন। দেশিয় খাবার খাওয়াচ্ছেন বলে জানা। এটি দেখতে আগতরা স্টলে ভিড় করছেন।
এদিকে প্রদর্শনীর সময় দেখা যায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ এলাকার আশপাশের গাছের ডালপালা লতাপাতা ছিঁড়ে নিজেদের যত্নে রাখা পশুগুলোকে খাওয়াচ্ছেন খামারিরা। খামারিদের জন্য কোন কিছু বরাদ্দ আছে কি না অনেকেই যেন তা জানে না।
একাধিক খামারি জানান, এখানে যারা এসেছেন পশুদের খাবার তারা নিজেরাই নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে প্রদর্শনীর বিষয়ে প্রচার প্রচারণা তেমন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের পরিচিত খামারিদের আসার জন্য বলা হয়ে থাকে বলে দেখতে আসা অনেকে এ অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: জুয়েল মজুমদার বলেন, এ প্রদর্শনীতে ২৯টি স্টল বসেছে। প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পশু পাখি কৃষকরা নিয়ে এসেছেন। পূর্ব থেকেই প্রচার প্রচারণা করে খামারিদেরকে জানানো হয়েছে। উপজেলায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশু খামার গড়ে তুলেছেন। আমরা তাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি।