এর আগে, মঙ্গলবার রাতে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দুইটি হাতুড়ি, তিনটি দা, একটি কিরিচ, দুইটি শাবল, জাল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বোট ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকার আলী আহম্মেদের ছেলে মো. কাইছার ওরফে কালু, একই উপজেলার পূর্ব বড়ঘোনা এলাকার আহম্মেদ সাবার ছেলে মো. জাহিদ, পশ্চিম বড়ঘোনার আলী চানের ছেলে মো. সেলিম এবং তার ছেলে মো. ইকবাল হোসেন।
.png)
ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এদের মধ্যে মো. কাইছার ওরফে কালুর বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় দুটি ও মো. সেলিমের বিরুদ্ধে একই থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, শুক্রবার একটি ট্রলারে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন বরগুনার ১৮ জেলে। ঐদিন রাতে পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২৫-৩০ জনের একটি জলদস্যুবাহী দ্রুতগামী ট্রলার তাদের ট্রলারের পেছনে ধাক্কা দেয় এবং ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। তখন ট্রলারে থাকা জেলেরা চিৎকার করলে জলদস্যুরা ট্রলারটিতে উঠে পড়েন। এরপর জেলেদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
জলদস্যুদের কবল থেকে বাঁচতে নয় জেলে গভীর সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিখোঁজ হন। অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা আহত নয় জেলেকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শনিবার রাতে তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের পাথরঘাটা উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে সোমবার বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দেওয়া নয় জেলের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়।
র্যাব আরো জানায়, ১০ ফেব্রুয়ারি বোট নিয়ে সমুদ্রে গমন করে এ ডাকাত দল। তারা প্রথমে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল এলাকায় একটি ডাকাতি সংঘটিত করেন। এরপর পুনরায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে বরগুনা-পটুয়াখালী চ্যানেলের দিকে যান। সেখানেই দ্বিতীয় ডাকাতি সংঘটিত করেন। মূলত আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে ডাকাতি করতেন তারা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে বর্তমানে বরিশাল, বরগুনা ও খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলে ডাকাতি কার্যক্রম শুরু করেন। এসব অঞ্চল থেকে ডাকাতি করা মালামাল কক্সবাজার নিয়ে বিক্রি করতেন। ঘটনার দিন ১৮ জেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়ার কথা স্বীকার করেন তারা। চক্রটিতে ১৮-২০ জন সদস্য রয়েছেন। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।