বগুড়ার সাতমাথা এলাকায় শহিদ খোকন পৌর শিশু উদ্যানের ভেতরে রয়েছে জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। এর ধার ঘেঁষে রয়েছে ছোট্ট একটি ফুলবাজার। এটিই জেলার একমাত্র স্থান যেখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের ফুল বেচাকেনা হয়। যেকোনো উৎসব ও দিবসে জেলার বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা এই ফুলবাজার। প্রায় ১৯ বছর আগে সেখানে ফুলবাজার গড়ে ওঠে। এর আগে শহিদ খোকন পৌর শিশু উদ্যানের সামনে ফুটপাতে বসে ফুল বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে ওই ফুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ফ্রেমে ফুল সাজানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ফুল ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা। আগে থেকেই অর্ডার করা পুষ্পার্ঘ্য তৈরি করছেন তারা। এছাড়াও কিছু ফুলের ডালা তৈরি করা আছে। তাই শেষ সময়েও নিচ্ছেন নতুন অর্ডার। রাত ১২ টার পরই শুরু হয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা। সেখানে সরকারি বিভিন্ন দফতরসহ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান।
.png)
ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়ার এই ফুলবাজারে ১৭টি দোকান রয়েছে। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিটি দোকানে গড়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকার শ্রদ্ধাঞ্জলি বিক্রি হয়েছে। এই হিসাবে এই বাজারে একদিনে ২০ লাখেরও বেশি টাকার বেচাকেনা হয়েছে।
তারা আরো বলেন, বগুড়ার পাশাপাশি ঢাকা, যশোরের কালিগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর থেকে ফুল সংগ্রহ করেন তারা। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত থেকেও ফুল আমদানি করা হয়। বাজারটি বগুড়ায় ফুলপট্টি নামেও পরিচিত। যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে বাড়ি, হোটেল, রিসোর্ট পূজা মণ্ডপ, মন্দির, সাজাতে এখান থেকেই ফুল কেনেন বগুড়ার বাসিন্দারা। এছাড়াও ফুলের পাপড়ি আর রঙ তুলি দিয়ে আলপনা, বিভিন্ন স্টেজ, বুর্কেট, ঝুড়ি সাজিয়ে দেওয়া হয় সেখানে।
আপন ফুলঘরের মালিক মোখলেছুর রহমান ও বিউটি ফুলঘরের কর্মচারি উৎপল দাস বলেন, ফুলের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। আকার অনুযায়ী এবার ৭০০-২৪০০ টাকায় শ্রদ্ধাঞ্জলি বিক্রি করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বিশেষ কিছু দিন বাদ দিয়ে তাদের প্রতিটি দোকানে দিনে গড়ে পাঁচ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। আর বিশেষ দিনগুলোতে অনেক দোকানে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। এখানে হলুদ গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, লাল, সাদা ও থাই গোলাপ, কামিনী, বেলি, সূর্যমুখী, ডালিয়া, টিউলিপ, লিলি, অর্কিটসহ আরো অনেক প্রজাতির ফুল বিক্রি হয়।
বগুড়া ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও করতোয়া ফুলঘরের মালিক লক্ষণ দাস অমিত ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ফুলবাজারে প্রায় ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার কেনাবেচা হয়েছে। বছরে কিছু বিশেষ দিনেই তাদের বেচাকেনা ভালো হয়। এছাড়া অন্যান্য দিনে তেমন বেচাকেনা হয় না।