রোববার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার রামগোপালপুর ইউপির পাঁচাশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজ্জাদুল হক ওই এলাকার তাহির উদ্দিনের ছেলে।
ওই দিন বেলা ৩ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদুল হক মারা যায়। এই ঘটনায় আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
.png)
গৌরীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মজুমদার বলেন, এই ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ টি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
নিহত সাজ্জাদুল হকের বড় ভাই এনামুল হক বলেন, ৩০০ একর জমিতে বোরো আবাদ করার জন্য একটা ট্রান্সফরমারের আবেদন করেছিলাম। সেই অনুযায়ী পিডিবি ট্রান্সফরমার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু, একটি পক্ষ বাঁধা দিয়ে আসছিল। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল আমিন জনি মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার দিন পিডিবির ঠিকাদার শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করেন। এ সময় ঠিকাদারকে খুঁটি স্থাপনে বাঁধা দেন রায়হান, শিমুল, উজ্জল, সুজন, বাবুলরা। একপর্যায়ে অতর্কিত দা বল্লম নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সাজ্জাদুল হককে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে আনার পর সাজ্জাদুল হক মারা যায়।
রামগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় স্থাপন করার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারপরেও একটি পক্ষ বাঁধা দিয়ে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্ত, এতে কাজ হয়নি। ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে, ঠিয়কাদারের খুঁটি স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা ছিল কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই।
ঠিকাদার হারুন অর রশিদ বলেন, দুই পক্ষের মারামারির আগেই আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে এসেছিলাম। পরে দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে। ওই জায়গায় খুঁটি স্থাপন নিষেধ ছিল কিনা জানতে চাইলে পরে কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী ইমতিয়াজ মামুন বলেন, ওই খুঁটি স্থাপন নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয় দুই পক্ষের ঝামেলা ছিল। তাই, ঠিকাদার হারুন অর রশিদকে ঝামেলা না মেটানো পর্যন্ত খুঁটি স্থাপনের নিষেধ দেয়া ছিল। এর চাইতে বেশি কিছু আমার জানা নেই।