বল সুন্দরী ফল চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোকজন এসে দেখে এ বিষয়ে নানা পরামর্শ তার কাছ থেকে নিচ্ছেন। বাগানের বরই এর মধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ৬০ হাজার টাকার উপর বরই বিক্রি করেছেন বলে জানান। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায় পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। বাজারে এই কুলের চাহিদা বেশি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই বাগান থেকে দুই লাখ টাকার উপর কুল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে রয়েছে বল সুন্দরী কুল। যে দিকে দৃষ্টি যায় শুধু ফল আর ফল চোখে পড়ছে। দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক সুস্বাধু ও মিষ্টি। গাছের পরিচর্যাসহ ফল বিক্রি নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। প্রতি গাছে প্রায় ২০-২২ কেজির উপর করে আপেল কুল ধরেছে।
.png)
কৃষক মো. মনির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষির পাশাপাশি এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন তিনি। গত দুই বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে এক জায়গায় বেড়াতে গিয়ে বল সুন্দরী বরই দেখে তার এ চাষের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বরই চাষ করতে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তাদের পরামর্শে বাড়ি সংলগ্ন রামধননগর রেলওয়ে গেইট এলাকায় প্রায় ৩৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে প্রায় দেড় ১ শতাধিক বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি মিশ্র জাতের আপেল কুলের গাছের চারা রোপণ করেন। জায়গা প্রস্তুত, কুল গাছের চারা রোপণসহ তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
চারা রোপণ করার ৬ মাসের মাথায় ফলন আসে। গত বছর তিনি এই বাগান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার কুল বরই বিক্রি করেন। এ বছর তার বরই গাছে তুলনামুলক ভাবে ভালো ফলন এসেছে। গত প্রায় ২৫ দিন ধরে চলছে বরই বিক্রি। এই ফলটি অতি মিষ্টি, খেতে আপেলের মতোই ও সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিক্রিতেও ভালো সাড়া পাচ্ছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, একদিন পর পর ৩-৪ হাজার টাকার ওপর রবই বিক্রি করছি। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকে কুল বরই নিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার উপর বরই বিক্রি করেছি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে দুই লাখ টাকার উপর বিক্রি করতে পারবো।

পাইকার ফারুক মিয়া বলেন, বেশকিছু দিন ধরে বাজারে বরই বিক্রি করছেন তিনি। মনির হোসেনের বাগানের বরই মিষ্টি ও সুস্বাদু। এতে করে ভালো লাভবান হচ্ছে তিনি।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। এর মধ্যে কৃষক মো. মনির হোসেন একজন সফল কৃষক। নতুন জাতের এই কুলের চাষ করে তিনি এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। বেকার ও শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষে এগিয়ে এলে একদিকে বেকারত্ব দূর হবে, অপরদিকে উপজেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও আসবে।