ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জবিউল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২১:০৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
জবিউল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা জবিউল হক মাস্টারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর একজনকে মৃত্যুদণ্ড অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।  

বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক আজিজুল হক এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন ৩৮ বছর বয়সী মো. জুয়েলের  এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলেন ৩৭ বছর বয়সী মাহবুব ওরফে মাফুক। এ ঘটনায় আরো চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। তবে রায়ের সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।  

দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েল রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউপির সেবাগ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে এবং মাহবুব মৃত মানিক হাওলাদারের ছেলে। নিহত মুক্তিযোদ্ধা জবিউল হক একই এলাকার হাজী আবদুল কাদেরের ছেলে।

Advertisement

জানা গেছে, জমি থেকে মাটি কাটার জেরে ২০০৯ সালের ২৩ জুন বেলা ১১টার দিকে প্রতিবেশী আবদুর রশিদের ছেলে ৫৪ বছর বয়সি আলাউদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে অভিযুক্তরা মুক্তিযোদ্ধা জবিউল হকের মাথায় কাঠ দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।  

এ ঘটনায় জবিউল হকের ভাই হাজী নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে আলাউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নামে রামগতি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১১ সালের ২১ মে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দেন লক্ষ্মীপুর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহাম্মদ।  

অভিযোগপত্রে তিনি মামলার প্রধান আসামি আলাউদ্দিনসহ আবদুল্লাহ, মাহবুব, স্বপন, জুয়েল ও মাকসুদ হাওলাদারকে অভিযুক্ত করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার ৫ নম্বর আসামি জুয়েলের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ নম্বর আসামি মাহবুব ওরফে মাফুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।  

রায়ে মামলার প্রধান আসামি ও চার্জশিটভুক্ত আলাউদ্দিন, আবদুল্লাহ, স্বপন ও মাকছুদ হাওলাদারকে খালাস দেওয়া হয়।  

এদিকে রায়ের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নুরুল ইসলাম। 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ঘটনার নির্দেশদাতা ও মামলার প্রধান আসামি আলাউদ্দিন খালাস পেয়েছে। আমরা তার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।  

আদালতের এপিপি মো. আবুল কালাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!